• কয়লা পাচার মামলায় দিল্লিতে গ্রেপ্তার ‘I-PAC’-এর ডিরেক্টর, কমিশন ও কেন্দ্রকে একযোগে আক্রমণ অভিষেকের
    এই সময় | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আই-প্যাক’ (I-PAC)-এর অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা পরিচালক ভিনেশ চন্দেলকে গ্রেপ্তার করল ইডি (Enforcement Directorate)। পশ্চিমবঙ্গের কয়লা পাচার কেলেঙ্কারির মামলায় তাঁকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই নিয়ে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। X পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা শিবির বদল করলেই যেন রাতারাতি রক্ষাকবচ পেয়ে যান। আর রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে সুবিধামতো সময়ে অন্যদের নিশানা করা হয়।’

    গত ২ এপ্রিল ইডি দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায়। ওই দিন চন্দেলের দিল্লির বাসভবন, বেঙ্গালুরুতে I-PAC-এর আরও এক কর্মকর্তা ঋষি রাজ সিংয়ের বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি একই মামলায় প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়ি ও আইপ্যাকের অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি। সেই তল্লাশি অভিযানের মাঝে প্রতীকের বাড়ি ও অফিসে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তল্লাশিতে বাধাদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। সেই সংক্রান্ত মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। তার শুনানি ছিল ১৪ এপ্রিল। তবে সেই মামলার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর।

    এ দিন কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক লিখেছেন, ‘রাজ্যে নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলের গ্রেপ্তারির ঘটনা শুধু উদ্বেগজনকই নয়, বরং এটা সব দলের জন্য সমান সুযোগে মূল ধারণাকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।’ তাঁর সাফ কথা, ‘যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা শিবির বদল করলেই যেন রাতারাতি রক্ষাকবচ পেয়ে যান। আর রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে সুবিধামতো সময়ে অন্যদের নিশানা করা হয়। দেশের মানুষ অন্ধ নন, তাঁরা সব বুঝতে পারছেন।’

    তদন্তকারী সংস্থাগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনে চলছে বলে অভিযোগ করে অভিষেক লিখেছেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন শাসকদলের চাপে তাদের হাতিয়ারের মতো আচরণ করতে শুরু করে, তখন মানুষের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকে।’ এই ধরনের আচরণ নিরপেক্ষতার লক্ষণ নয় বলেও অভিযোগ তাঁর। অভিষেকের কথায়, ‘একদিকে নির্বাচন কমিশন, অন্যদিকে ঠিক ভোটের মুখে এমন সংবেদনশীল সময়ে ইডি, এনআইএ, সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সির আসরে নামা— কোনও ভাবেই নিরপেক্ষতার লক্ষণ নয়, বরং ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করছে।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘এই বিষয়টি নিছক একজন ব্যক্তির গ্রেপ্তারির চেয়েও অনেক বড়। প্রশ্নটা হলো, আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো আদৌ স্বাধীন আছে কি না, এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক ভয়হীনভাবে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না।’

  • Link to this news (এই সময়)