শ্যামগোপাল রায়
ময়দানে সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর। চড়া রোদে গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই চলছে ঘাম ঝরানো প্রচার। কিন্তু এই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই প্রার্থীদের স্বাস্থ্য নিয়ে বিপদ সংকেত দেখছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের হুঁশিয়ারি, জয়-পরাজয় পরের কথা, প্রচারের নেশায় ঘুমের উপরে কোপ বসালে বিপদ অনিবার্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু ভোটের মরসুমে সেই নিয়ম খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ। অধিকাংশ প্রার্থীরই রাতের ঘুম উড়েছে। এই অনিদ্রা শুধু শারীরিক ক্লান্তিই নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক সমস্যারও কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
ঘুম-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুমন দাসের কথায়, ‘পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের বিচারবুদ্ধি এবং সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা কমে যায়। প্রচারে গিয়ে জনতার নাড়ি বোঝা বা সঠিক শব্দে গুছিয়ে ভাষণ দেওয়া— সব ক্ষেত্রেই সমস্যা হতে পারে।’ তিনি জানান, ঘুমের অভাবে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, দ্রুত রাগের বহিঃপ্রকাশ বা মনঃসংযোগের অভাব প্রকট হয়ে ওঠে, যা একজন জননেতার ভাবমূর্তির পক্ষে ক্ষতিকর।
চিকিৎসক মহলের একাংশের পরামর্শ, সন্ধ্যার পরে প্রার্থীরা যেন খুব চড়া আলোয় সভা না করেন। কারণ, কৃত্রিম চড়া আলো মস্তিষ্কের ‘স্লিপ সাইকেল’ বা ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। চিকিৎসক দীপক দাসের মতে, ‘ফুরফুরে মেজাজে প্রচার করতে হলে ঘুমের বিকল্প নেই। ঘুম-ঘুম ভাব নিয়ে জনসভায় কখনও জোরালো প্রভাব ফেলা সম্ভব নয়।’
বাস্তব পরিস্থিতি অবশ্য চিকিৎসকদের এই প্রেসক্রিপশনের ধার ধারছে না। এন্টালি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সন্দীপন সাহার কথায়, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। মাঝরাত পর্যন্ত চলছে ঘরোয়া বৈঠক।’ সন্দীপনের প্রশ্ন, ঘুমের ঘাটতি তো হচ্ছেই, কিন্তু লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে ঘুমোনোর উপায় কই!’ একই সুর বিরোধীদের গলাতেও। বরাহনগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ বলেন, ‘দিনে চার-পাঁচ ঘণ্টার বেশি ঘুমোনোর ফুরসত নেই। বহু বছরের রাজনৈতিক জীবনে এটাই দস্তুর হয়ে গিয়েছে। ভোট মিটলে সাত-দশ দিন বিশ্রাম নিয়ে এই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।’
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এখনই যদি সতর্ক হওয়া না যায় তবে ভোট মিটলে শরীরের উপরে বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাঁদের বিধান— প্রচারের ফাঁকেও যখনই সুযোগ মিলবে সামান্য ঝিমিয়ে নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভোটের ফলাফলের আগেই শরীর জবাব দিতে পারে।