আক্রান্ত কংগ্রেস কর্মীদের (Congress Workers) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের (Police) বিরুদ্ধে। এই নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় ধুন্ধুমার বেঁধে গেল মুর্শিদাবাদের ইসলামপুরে (Islampur)। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইসলামপুরের শেখপাড়া সড়ক অবরোধ করলেন কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। যদিও এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি ইসলামপুর পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে খবর, রানিনগর বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী জুলফিকার আলির সমর্থনে প্রচার করছিলেন কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ সেই সময়ে তাঁদের আক্রমণ করে তৃণমূল। রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। গুরুতর জখম হন ৫ জন কংগ্রেস কর্মী। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত ইসলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু একজনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
ওই কর্মীকে যখন অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে স্থানান্তরের তোড়জোড় চলছিল, তখনই ঘটনাস্থলে আসে ইসলামপুর পুলিশ। কংগ্রেসের অভিযোগ, রক্তাক্ত অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ ওই কর্মীকে অ্যাম্বুল্যান্সের ভিতরে আটকে রাখা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছন কংগ্রেস প্রার্থী জুলফিকার আলি। হাসপাতালের বাইরে পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু তার পরেও অ্যাম্বুল্যান্সটিকে ছাড়া হয়নি বলে অভিযোগ। এর পরেই বিক্ষোভকারীরা ইসলামপুরের শেখপাড়া সড়ক অবরোধ করেন। দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক দেবাশিস ঘোষ এবং বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অবশেষে ইসলামপুর থানার ওসির পক্ষ থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে দীর্ঘক্ষণ পর অবরোধ তুলে নেন কংগ্রেস কর্মীরা।
গোটা ঘটনায় সরাসরি পুলিশের দিকে আঙুল তুলে জুলফিকার বলেন, ‘পুলিশ নিরপেক্ষ নয়। তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে।’ ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের অপসারণও দাবি করেন তিনি। তবে এই বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কংগ্রেস কর্মীদের উপরে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূলও।