ডিলিমিটেশন বিল পাশ করতে দেব না, হুঁশিয়ারি বিরোধীদের
বর্তমান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মুলতুবি না হওয়া পর্যন্ত আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তিনদিন দলের সব সাংসদকে সংসদে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। ‘হুইপ’ জারি করল কংগ্রেস। একইসঙ্গে জানিয়ে দিল, মহিলা সংরক্ষণ আইনের আড়ালে মোদি সরকার এলাকা পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করানোর ফন্দি করেছে। তাই তা রুখতে বিরোধীরা একজোট হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেবে। আগামী ১৬-১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসিয়ে তিনটি বিল পাশ করাতে মরিয়া মোদি। সেগুলি হল, ২০২৩ সালের সংবিধান সংবিধান বিল (যার জেরে পাশ হয়েছে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম), ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কোটা নির্দিষ্ট করার বিল। বিজেপি ইতিমধ্যেই সাংসদদের হাজির থাকার হুইপ জারি করেছে।
এই তিন বিল নিয়ে সরকার এবং বিরোধী, উভয় উভয়কেই চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দুটি বিল সরকার একসঙ্গে আলোচনা করিয়ে পাশ করাতে চায়। যদিও দুটি বিলই সংবিধান সংশোধন বিল। তাই দুটি বিল পৃথকভাবে পাশ করানোর জন্য চাপ দেবে বিরোধীরা। মহিলা সংরক্ষণ আইন সংশোধনে বিরোধীদের আপত্তি নেই। তবে এলাকা পুনর্বিন্যাসে প্রবল আপত্তি রয়েছে। তাই সেটি পাশ করাতে দেবে না বলেই বিরোধীরা একজোট। একইসঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ আইনের সংশোধনী বিলে ওবিসির জন্যও পৃথক কোটা দাবি করা হবে। কংগ্রেস নেত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ সোনিয়া গান্ধীর সওয়াল, সরকারি চাকরি এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যদি তফসিলি জাতি-উপজাতির পাশাপাশি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি কোটা থাকতে পারে, তাহলে সংসদীয় প্রতিনিধিত্বে কেন নয়?
সোমবার তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, আমরা বিরোধীরা একজোট হয়ে মোদির ষড়যন্ত্র রুখব। সরকারকে সংসদে ভোট দিয়ে হারাব। এলাকা পুনর্বিন্যাস বিল পাশ হতে দেব না। তিনি আরও বলেন, আর যাইহোক মহিলা সংরক্ষণ কাকে বলে তা মোদি-অমিতের কাছে শিখব না। ১৯৯৮ সালে লোকসভায় দাঁড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণের দাবি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৪ সালে লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের ৩৭ শতাংশ মহিলা। তাই প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে ডেরেকের মন্তব্য, নরেন্দ্র, বড়বড় কথার বলার আগে এসব জেনে নিন। আগামী কাল ১৫এপ্রিল স্ট্র্যাটেজি বৈঠকে বসছে বিরোধীরা।