শ্রীনগর: প্যান কার্ড, আধার কার্ড বা পাসপোর্ট—সবই নকল। এই সমস্ত নকল নথি ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখত জঙ্গিরা। ভুয়ো নথি সরবরাহের দায়িত্ব থাকত নির্দিষ্ট কয়েকজনের উপর। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশ। অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা আধার কার্ড, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, এমনকি ভুয়ো ভোটার কার্ড তৈরি করে জঙ্গিদের সাহায্য করত।
দিল্লির লালকেল্লা চত্বরে বিস্ফোরণের পরই জঙ্গি দমন অভিযানে বিশেষ তৎপর হয় কেন্দ্র। তদন্তের সূত্রে উঠে আসে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। সেখান থেকে জঙ্গি নেটওয়ার্ক ফাঁস করার অভিযান শুরু। পরে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের সাহায্যে সর্বভারতীয় পরিসরে জঙ্গি নেটওয়ার্ক ফাঁসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাজস্থান, হরিয়ানা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক ব্যক্তি আটক হয়। এই আবহে শ্রীনগর পুলিশ লস্কর মডিউলের পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে ছিল পাকিস্তানের দুই কুখ্যাত জঙ্গি আবু হুরেইরা ও উসমান। তারা দু’জনেই দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পলাতক ছিল। বাকিদের মধ্যে শ্রীনগরের তিন বাসিন্দা ছিল। তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল। এদের জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে দিয়েই সর্বভারতীয় চক্রের সুতো খুলতে শুরু করে। ধৃতরা জানায়, তারা লস্করের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। একে একে অস্ত্র সরবরাহকারী আদিল রশিদ, মির ও রশিদ ভাটের সন্ধান পায় পুলিশ। ধৃতরা শ্রীনগর ও আশপাশের জঙ্গলে একাধিক ঠিকানা চিনিয়ে দেয়, যেখানে নিয়মিত আশ্রয় নিত জঙ্গিরা। সেই সব গোপন ডেরা থেকে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি একে-ক্রিঙ্কভ, পিস্তল, হ্যান্ড গ্রেনেড, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সহ নানা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।