• কয়লা চুরি: ইডির বিবৃতিতে বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠদের নাম, মমতার অভিযোগকে মান্যতা?
    বর্তমান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রবিবারই আসানসোলের জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, কয়লা কারবারের কোটি কোটি টাকার মান্থলি বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীরা নিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে নিশানা করেই তিনি একথা বলেছিলেন। মমতার এই অভিযোগকেও কার্যত মান্যতা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট  (ইডি)। শনিবার এক প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সেখানে দাবি করেছে, শেষ পাঁচ বছরে ৬৫০ কোটি টাকার কয়লা কেলেঙ্কারি হয়েছে। এই সিন্ডিকেট সুষ্ঠভাবে চালাতে ঘুষ দেওয়া হয়েছে সরকারি আধিকারিক ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্তি স্থানীয় নেতাদের। ভোটের মুখে কয়লা কেলেঙ্কারিতে নতুন করে রাজনৈতিক যোগসূত্র ইডি’র বিবৃতিতে উঠে আসায় সরগরম শিল্পাঞ্চল। সিন্ডিকেটের প্রাথমিক অভিযুক্ত হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করেছে, চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁর নাম। এরা দু’জনেই বিজেপি নেতা জয়দেব খাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ইডি’র এই বিবৃতি হাতিয়ার করেই মোদি-অমিত শাহদের কয়লা চুরিতে সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ নস্যাৎ করতে উঠেপড়ে লেগেছে তৃণমূল। 

    বঙ্গে নির্বাচন এলেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থাগুলির তৎপরতা বাড়ে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত কয়লা পাচার নিয়ে সিবিআই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছিল। একুশের ভোটে সেই তদন্তে ইডি ধাক্কা দিতে চেয়েছিল তৃণমূলকে। এমনটাই শাসক শিবিরের অভিযোগ। সেই মামলার বিচার পক্রিয়া এখনও চলছে আসানসোল সিবিআ‌ই বিশেষ আদালতে। ২০২৬ সালের ভোটের আগে ফের ইডি বর্তমান কয়লা সিন্ডিকেটের তদন্তে নামে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই শিল্পাঞ্চলে ভোটের আগে প্রেস রিলিজ করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়লা পাচার নিয়ে ইসিএল, সিআইএসএফ ও স্থানীয় পুলিশের করা ৫৪টি এফআইআরের কথা। তারা দাবি করেছে, কয়লা সিন্ডিকেটটি বিগত পাঁচ বছর ধরে সাড়ে ছ’শো কোটি টাকার অবৈধ কারবার করেছে। কয়লা পাচারের পাশাপাশি ইসিএলের বৈধ কয়লা কারবারেও তারা বিপুল পরিমাণ গুন্ডা ট্যাক্স নিত। আর এই সিন্ডিকেটের বিবরণ দিতে গিয়েই উল্লেখ করা হয়েছে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি। সেখানে কিছু সরকারি আধিকারিক ও রাজনৈতিক মেশিনারির কথা স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে। 

    তৃণমূলের অভিযোগ, এভাবেই কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়। দলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, ‘ইডির প্রেস রিলিজে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁর নাম। তাঁরা বিজেপি নেতা কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া জয়দেব খাঁয়ের আত্মীয়। তারা একসঙ্গে ব্যবসাও করত। এখন ইডিকেও মেনে নিতে হচ্ছে কয়লা কারবার বিজেপির নিয়ন্ত্র঩ণেই হচ্ছে!’

    বিজেপি জেলা কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য জয়দেব খাঁ বলেন, ‘কার কোন আত্মীয় কী করছে, তা সবার পক্ষে খোঁজ রাখা সম্ভব নয়। তাঁরা বর্তমানে কী ব্যবসা করে, কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আমার কিছুই জানা নেই। আমি সমাজসেবা করি। বিজেপির জনপ্রিয়তাকে ভয় পেয়েই তৃণমূল আমার নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। 

    রাজনৈতিক এই দড়ি টানাটানির মাঝে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন, কয়লা পাচার নিয়ে বিগত কয়েক বছর জোর কদমে তদন্ত করছে সিবিআ‌ই। আসানসোল আদাল঩তেই সেই মামলার বিচার চলছে। তাবড় কয়লা মাফিয়াদের নামে সিবিআই চার্জশিট দিয়েছে। তারপরও কার সাহসে শিল্পাঞ্চলে নতুন কয়লা সিন্ডিকেট গজিয়ে উঠল? 
  • Link to this news (বর্তমান)