• কেউ ঢুকলে দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, কেন পদত্যাগ করবেন না, তোপ মমতার, অনুপ্রবেশের ‘ফাটা রেকর্ড’ অমিত শাহের গলায়
    বর্তমান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • পিনাকী ধোলে, বলরাম দত্তবণিক, সুমন তেওয়ারি, খয়রাশোল, ময়ূরেশ্বর ও রানিগঞ্জ: দিনকয়েক আগে বীরভূমের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনুপ্রবেশের গল্প শুনিয়েছিলেন। অনুপ্রবেশই নাকি রাজ্যের সবচেয়ে বড় সমস্যা! সোমবার সেই একই ফাটা রেকর্ড বাজালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। বীরভূমের খয়রাশোল, কোটাসুর ও পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জের সভা থেকে শাহের হুঙ্কার, ‘মমতা দিদি ও তাঁর ভাইপোই অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়েছেন। বিজেপি সরকার গড়লে এক এক করে খুঁজে বের করে তাড়ানো হবে।’ শাহ যখন অনুপ্রবেশের জুজু দেখাচ্ছেন, ঠিক তখনই সিউড়ির পাল্টা সভা থেকে মোদি-শাহের যাবতীয় দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাহকে তাঁর প্রশ্ন, ‘সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব কেন্দ্রের। সেখানে কেউ ঢুকলে তার দায় আপনার। আপনি কেন পদত্যাগ করবেন না?’

    সোমবার বীরভূমের দুই প্রান্তের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর ভাইপোর বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, ‘মমতা দিদি ও তাঁর ভাইপো অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছেন।’ শাহের প্রতিশ্রুতি, ‘বিজেপি সরকার গঠন করলে শুধু বাংলা নয় গোটা দেশ থেকে এক একটা অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে খুঁজে বের করে তাড়ানো হবে।’ এদিন অনুপ্রবেশ নিয়ে ফের জমি বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘৬০০ একর জমি দরকার। রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না বলেই বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া দিতে পারছে না।’ শাহের গ্যারান্টি, ‘বিজেপি সরকার এলে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি দেব, আর বর্ডার সিল করব।’ প্রসঙ্গত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নথি কিন্তু অন্য তথ্য বলছে। বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্যের অসুরক্ষিত সীমান্ত এলাকায় চৌকি তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০০ একর জমি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে রাজ্য সরকার।   

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপ্রবেশ তত্ত্বকে সপাটে মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সোমবার সিউড়ির জনসভা থেকে অমিত শাহকে পাল্টা তোপ দেগে মমতা বলেন, ‘বর্ডার থেকে কেউ ঢুকলে তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। সীমান্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব আপনার। তাহলে আপনি কেন পদত্যাগ করবেন না?’ অমিত শাহ বলেন, ‘এসআইআর করে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ হচ্ছে দেখেই মমতা তাদের বাঁচাতে চাইছেন।’ পাল্টা মমতার তোপ, ‘আপনি যদি ২০২৪-এর তালিকায় প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারেন, তবে বাংলার মানুষ কী অন্যায় করল? হিম্মত থাকলে আগে পদত্যাগ করুন। তারপর এসআইআরের নামে সর্বনাশের খেলা খেলুন।’ দিল্লিতে শেখ হাসিনার আশ্রয়ের প্রসঙ্গ উস্কে দিয়ে মমতার বিদ্রুপ, ‘বাংলাদেশ থেকে তো একজন এসে দিল্লিতে বসে আছেন। তাঁকে তো লুকিয়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর যাঁরা সারা জীবন এখানে আছেন, তাঁদের কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে?’ তাঁর সাফ কথা, ‘আমরা বেঁচে থাকতে কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে দেব না। বাংলার মানুষ বাংলাতেই থাকবে।’

    কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী মোদি সিউড়িতে এসে দাবি করেছিলেন, অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয়দের রোজগার ছিনিয়ে নিচ্ছে। সেকারণে বীরভূমের মানুষকে পরিযায়ী হতে হচ্ছে। একই সুর শাহের গলাতেও। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এই ‘ঘুসপেটিয়া’র জুজু খাড়া করছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)