• চৈতন্য হয়েছে! তৃণমূল প্রার্থীকে বললেন বৃদ্ধ, ব্যবধান দ্বিগুণ করার কথা ভাবছেন বিশ্বনাথ
    বর্তমান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • সোহম কর, জয়নগর: চৈতন্য হয়েছে! কয়েকদিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জয়নগর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বনাথ দাসের কাছে এমনই কথা বলেছিলেন এক বৃদ্ধ। দু’বারের বিধায়ক বিশ্বনাথ একথা শুনে অবাক। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘কেন বলছেন?’ উত্তর আসে, ‘আমি এসইউসি পরিবারের লোক এমএলএ সাহেব! বাড়িতে তিন বউমা আর আমরা বুড়ো-বুড়ি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৌলতে মাসে সাত হাজার টাকা ভাতা পাই।’ বিশ্বনাথবাবু এরকম একটা গল্প শুনিয়ে বোঝাতে চাইলেন, সরকারের ভাতার জন্য প্রান্তিক মানুষের কীভাবে আর্থিক উন্নতি হয়েছে। এর প্রভাব যে ভোটারদের মধ্যে পড়েছে, সেকথা স্বীকারও করছেন ওই কেন্দ্রের এসইউসি প্রার্থী নিরঞ্জন নস্কর।

    শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে পড়ে জয়নগর। সুন্দরবন লাগোয়া প্রাচীন জনপদ। শক্তি চট্টোপাধ্যায়, শিবনাথ শাস্ত্রী, নীলরতন সরকারের মতো মানুষের এই জন্মভূমিতে বাম আমলেও সিপিএম সুবিধা করতে পারেনি। এখানে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কখনও এসইউসি, কখনও কংগ্রেসের আধিপত্য ছিল। ২০১৬ সাল থেকে এখানে তৃণমূলের বিশ্বনাথ দাস বিধায়ক। তিনি এলাকায় ‘স্যর’ বলেই পরিচিত। পেশায় ছিলেন স্কুল শিক্ষক। কলেজেও অধ্যাপনা করেছেন। ২০১৬ সাল থেকে এসইউসির ভোট শতাংশ কমতে শুরু করে। ২০২১ সালের নির্বাচনে এসইউসিকে ছাপিয়ে গিয়েছিল সিপিএম। ২০১৬ সালে ১০ শতাংশ পাওয়া বিজেপি ২০২১ সালে পেয়েছিল প্রায় ৩২ শতাংশ ভোট। দ্বিতীয়-তৃতীয়-চতুর্থ নিয়ে লড়াই হলেও এই কেন্দ্রে ভোট বাড়িয়েছে তৃণমূল। বিশ্বনাথবাবু ২০১৬ সালে পেয়েছিলেন ৩৬ শতাংশ ভোট, তারপর পেলেন প্রায় ৫২ শতাংশ ভোট। 

    বিশ্বনাথবাবু বলছেন, ‘গতবার ৩৮ হাজারের কিছু বেশি ভোটে জিতেছিলাম। এবার দ্বিগুণ কীভাবে করা যায়, সেটাই ভাবছি।’ কীভাবে এত প্রত্যয়ী তিনি? ‘মিছিল-মিটিংয়ে তো বোঝা যায়। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তাছাড়া দিদির প্রকল্প পেয়ে মানুষ খুব খুশি। মা-বোনেদের হাতে এখন টাকা রয়েছে। এসব তো ৩৪ বছরে বামেরা পারেনি’, বলছিলেন এলাকার ‘স্যর’। জিতে এলে তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘জল জীবনের টাকা কেন্দ্র বন্ধ করে রেখেছে। পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমরা নতুন সুন্দরবন জেলা পাব।’ এসআইআর নিয়ে বিশ্বনাথবাবু খুব একটা চিন্তিত নন। হিসাব তাঁর মুখস্থ। বলে দিলেন, ‘মৃত আর স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ হোক, আমিও চেয়েছি। ২১ হাজারের মতো বাদ পড়েছে। আর ১৫ হাজার বিচারাধীনের মধ্যে কিছু নাম উঠেছে। বাকিদের পাশে আমরা রয়েছি।’ বিজেপি প্রার্থী অলোক হালদার বলছেন, ‘বাংলা পরিবর্তন চাইছে। কংগ্রেস-তৃণমূল-আইএসএফ-সিপিএম কেউ ফ্যাক্টর নয়।’ সিপিএমের তরুণ প্রার্থী অপূর্ব প্রামাণিক বলছেন, ‘ফল ভালো হবে, লড়াই হবে। লড়াই এবার ত্রিমুখী। কারণ, কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে। ওদের একটা ভোট আছে।’ অপূর্ব প্রচারে উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, জয়নগরে উড়ালপুলের কথা বলছেন। পানীয় জল ও গণপরিবহণের সমস্যার কথাও তুলে ধরছেন। এসইউসি প্রার্থী নিরঞ্জন নস্কর বলছেন, ‘বিজেপি এসে ধর্মীয় রাজনীতির বিষয়টি মানুষের রুটি-রুজির লড়াইয়ের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তার উপর রাজ্যের ভাতার প্রভাব রয়েছে মানুষের মনে। কিন্তু ছোটো ছোটো পাড়া বৈঠকে মানুষ ধীরে ধীরে মুখ খোলা শুরু করেছেন। লড়াই হবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)