সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বর বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেবেন ১৯ শতায়ু। স্বাধীনতার পর থেকে ভোট দিচ্ছেন তাঁরা। সে অভিজ্ঞতা বলার মত শারীরিক সক্ষমতা এখন তাঁদের নেই। তবে ভোটদানের আগ্রহ এতটুকুও কমেনি।
তারকেশ্বর বিধানসভা এলাকায় শতবর্ষ উত্তীর্ণ ভোটারের সংখ্যা ১৯। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ১০৭ বছরের বৃদ্ধা। এছাড়া ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বের সিনিয়র সিটিজেন রয়েছেন। আছেন বিশেষভাবে সক্ষমরাও। এরকম ৯৯৬ জনের বাড়ি গিয়ে ভোট নেবে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রেই খবর, দ্বিতীয় দফার ভোটে সিনিয়র সিটিজেন ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারের সংখ্যা তারকেশ্বর বিধানসভা এলাকায় সর্বাধিক।
এই বিধানসভা এলাকায় বুথের সংখ্যা ২৭০। তার মধ্যে ৭৯টি বুথ ধনেখালি ব্লকের মধ্যে। এছাড়া তারকেশ্বর ব্লকে আছে ১০টি। আর ধনেখালি ব্লকে রয়েছে ৫টি পঞ্চায়েত। এগুলি নিয়ে গঠিত তারকেশ্বর বিধানসভা। ১৮-২২ এপ্রিল বাড়িতে বসে ভোট দেবেন বিশেষ ভোটাররা। ১৯ প্রবীণ ভোটারের মধ্যে পুরুষ দু’জন। বাকিরা মহিলা। তারকেশ্বর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ১০১ বছরের কালিদাসী পাখিরা। ওই বুথের বি এল ও রাজশেখর মজুমদার ১৮ এপ্রিল ভোটদানের কথা জানাতে যান কালিদাসী দেবীর কাছে। গতবার ভোট দিতে পারেননি তিনি। এবার বাড়ি বসেই ভোট দিতে পারবেন শুনে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়া চোখে হাসি ফোটে। আনন্দ প্রকাশ করেন। স্বাধীনতার পর থেকে ভোট দিচ্ছেন। সে অভিজ্ঞতার কথা জিজ্ঞেস করার পর বলেন, ‘কতদিন ভোট দিয়েছি সে কথা মনে নেই।’ স্বাধীনতা বা তার পরবর্তী ঘটনা, কিছুই মনে পড়ে না তাঁর।
তারকেশ্বর বিধানসভার মধ্যে সবথেকে বেশি বয়স ভঞ্জিপুর পঞ্চায়েতের হাউলি গ্রামের গৌরী সিংয়ের। তাঁর বয়স ১০৭ বছর। এছাড়া রয়েছেন তারকেশ্বর পুরসভার পদ্মপুকুরের বাসিন্দা ১০৬ বছরের গীতা পোড়েল। ১০৫ বছরের ভোটার আছেন দু’জন, পিয়াসাড়া মাল পাহাড়পুর এলাকার রাধারানি ভৌমিক ও সন্তোষপুর পঞ্চায়েত এলাকার নারায়ণপুরের নির্মলা ভৌমিক। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ দল ১৮-২২ এপ্রিল সকাল থেকে ভোট নেবে এই বিশেষ ভোটারদের। তারকেশ্বর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের শতায়ু ভোটার কালিদাসী পাখিরা। নিজস্ব চিত্র।