• বিচারকদের বাঁশ দিয়েই আক্রমণ করা হয়! অঘটনের আশঙ্কা ছিল, মোথাবাড়ি কাণ্ডে মন্তব্য এনআইএ আদালতের
    বর্তমান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: মোথাবাড়িতে বিচারকদের বাঁশ দিয়ে আক্রমণ করা হয়। এর জেরে অঘটন ঘটে যেতে পারত। আক্রান্ত বিচারকদের মামলার শুনানিতে সোমবার এমনই মন্তব্য করল ব্যাঙ্কশালে এনআইএ-র বিশেষ কোর্ট। এই কাণ্ডে ধৃত গোলাম রব্বানি, সাহদাত হোসেন ও আসিফ শেখকে সোমবার আদালতে পেশ করে এনআইএ। অভিযুক্তদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে পাঁচটি মোবাইল ফোন। এগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এদিকে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের যোগ আছে কি না এনআইএ-কে বিশেষভাবে দেখার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    মোথাবাড়ি কাণ্ডের তদন্তভার হাত নিয়ে বিচারকদের আটকে রাখার পরিকল্পনায় কারা কারা ছিল এবং উসকানি এসেছে কাদের থেকে, সেটাই জানার চেষ্টা করছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির অফিসাররা। ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের হাতে ধৃত সকলকেই তাঁরা হেপাজতে নিয়েছেন। তদন্তভার নেওয়ার পর রবিবার রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, বিচারকদের আটকে রাখার পরিকল্পনা ছিল মোফাক্কেরুলের। তাঁর কথামতোই তারা সেখানে জড়ো হয়। শান্তিপূর্ণ জনতাকে বলতে থাকে কোনোভাবে বিচারকদের বেরোতে দেওয়া যাবে না। তাঁরা যাতে জল, খাবার পর্যন্ত খেতে না পারেন 

    সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এই তিনজন ওই আইনজীবীর কথামতো মাইকে প্রচার করতে থাকে যে, বিচারকরা তাদের সঙ্গে কথা বলবেন!  পরিকল্পনা করা হয় তাঁরা বেরোলেই আটকানো হবে। এর জন্য বাঁশ লাঠি জোগাড় করে রাখা হয়েছিল। বিচারকরা গাড়িতে ওঠামাত্রই তাঁদের গাড়ি ধাওয়া করে অভিযুক্তরা। তাতে নেতৃত্ব দেয় ধরা পড়া গোলাম রব্বানি, সাহদাত ও আসিফ। গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বিচারকদের। সমস্ত কিছু তথ্য-প্রমাণ হাতে 

    আসার পরই তাদের রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করে এনআইএ।

    সোমবার তিনজনকেই কলকাতায় এনআইএ-র বিশেষ আদালতে তোলা হয়। এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ আদালতে বলেন, এরা বিডিও অফিস ঘেরাও করে। প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ বন্ধ করে রাখা হয়। খাবার, এমনকি জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বিচারকদের। অভিযুক্তদের জন্য সাতদিনের পুলিশি হেপাজতের আবদেন করা হয়। অভিযুক্ত সাহদাত দাবি করে, ওইদিন সে স্পটে ছিল না। ওই ব্লকে সে ঠিকাদারের কাজ করে। ফোন পেয়ে উদ্ধার করতে গিয়েছিল। ‘ডিস্টার্বড’ ছিল এলাকা। আসিফও একই দাবি করে।

    গোলাম রব্বানি জানান, তিনি পঞ্চায়েত সদস্য। তাঁর গ্রাম থেকে জমায়েত হয়।  দুপুর পর্যন্ত তিনি ছিলেন। রাত ৮টা নাগাদ মাইকে প্রচার করা হয় যে, জজ সাহেবরা কথা বলবেন। তখন তিনি ছিলেন না। এরপরই বিচারক সুকুমার রায় বলেন, আটকানো হয় বিচারকদের। পথ অবরোধ করা হয়। বাঁশ দিয়ে আক্রমণ করা হয়। এর জেরে অঘটন ঘটে যেতে পারত। গোটা ঘটনায় এই অভিযুক্তরা জড়িত ছিল। 

    সুপ্রিম কোর্টে এই ঘটনার শুনানি ছিল এদিন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নির্দেশ দিয়েছেন—তদন্তের কাজে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সবরকম সহায়তা করতে হবে। তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর এখনো পর্যন্ত কী করেছে, তার স্টেটাস রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে এনআইএ। সোমবার অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাট্টি সুপ্রিম কোর্টে জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এনআইএ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যতম একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)