• স্পষ্ট নীতিতে ইস্তেহার তৃণমূলের, বিরোধীরা কাজিয়াতেই মত্ত
    বর্তমান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির শ্রীরামপুরে নির্বাচনী প্রচারের মাঝপর্বে কারখানা নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই পরস্পরকে শিল্প নিয়ে আক্রমণ শানাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। শ্রীরামপুর বিধানসভার মধ্যে থাকা শ্রীরামপুর ও রিষড়া মূলত হুগলির শিল্পবলয় হিসেবে পরিচিত। ফলে, ওই শিল্প প্রশ্ন ঘিরে প্রতিদিনই প্রচারের পরিসর সরগরম হয়ে উঠছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, শ্রীরামপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তন্ময় ঘোষ, প্রথমদিনই থেকে শিল্প পরিসরকে বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি নিজে বেসরকারি সংস্থার বড়পদে ছিলেন। পাশাপাশি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কথা তিনি বারবার বলেছেন। বাম থেকে কংগ্রেস, বিজেপি অবশ্য নানাভাবে শিল্প-সংকটের অভিযোগ তুলে বাজার গরম করতে নেমেছে।

    বিজেপি’র প্রার্থী ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, শ্রীরামপুরের অতীত শিল্পগৌরব আজ আর নেই। একের পর এক কারখানা বন্ধ। শ্রমিকদের অবস্থা বেহাল। তাঁদের কথা রাজ্য সরকার ভাবেনি। বাম আমলে ট্রেড ইউনিয়ন যে শিল্প ধ্বংসের কাজ শুরু করেছিল, তৃণমূল তাতে সিলমোহর দিয়েছে। এসএফআই নেত্রী তথা এবারের সিপিএম প্রার্থী নবনীতা চক্রবর্তী বলেন, বাম আমলে শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় ট্রেড ইউনিয়ন হয়েছিল। কিন্তু শিল্পপতিদের পাশে ছিল বিজেপি। পাট নিয়ে কেন্দ্রীয় নীতি তৈরি করেনি বিজেপির সরকার। এখনও তারা কারখানা মালিকদের মদত দেয়। সঙ্গে জুটেছে তৃণমূল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবার শ্রীরামপুরে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, শিল্প বেহাল, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। আমরা ক্ষমতায় এলে শিল্পনগরীর মর্যাদা ফেরাব। 

    তৃণমূলের প্রার্থী তথা দলের অন্যতম মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, প্রথমে বামেরা শিল্পকে ধ্বংস করেছে। তারপর ময়দানে নেমেছে বিজেপি। দেশজুড়ে বিজেপি একমাত্র দল, যারা শিল্পপতিদের বন্ধু। শ্রীরামপুর কোনও বিচ্ছিন্ন নয়। কেন্দ্রীয় সরকার পাটজাত সামগ্রীকে সঠিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টাই করেনি। তাতেই জুটমিলের সমস্যা হয়েছে। আমাদের সরকার শ্রীরামপুরে শিল্পহাব করেছে। একাধিক ই-কমার্স সংস্থা এখানে জমি নিয়েছেন। কর্মসংস্থান হয়েছে। শ্রীরামপুরে সিল্কস্ক্রিন হাব তৈরি করছে আমাদের সরকার। আমি আমার ইস্তেহারে স্পষ্ট করেই বলেছি, শিল্পের পরিসর বৃদ্ধি, আধুনিকতার আমদানি, কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পেশাগত প্রশিক্ষণ এসব পরিকল্পনা নেব। শ্রীরামপুরে শিল্পের পরিসর বাড়ানো হবে।

    হুগলি জেলাকে একদিকে শিল্প, অন্যদিকে কৃষিবলয়ে পরিষ্কার বিভাজন করা যায়। সেখানে শ্রীরামপুর বিধানসভার শিল্পবলয়ে থাকাটা একেবারেই বাস্তব। মূলত, একগুচ্ছ জুটমিল আছে ওই বিধানসভা এলাকায়। সেই শিল্পকে  ঘিরে সমস্যা আছে তেমনই সমাধানের জন্য সরকারের প্রয়াসও অনন্ত। পাশাপাশি, এটাও সত্য যে, বিকল্প নানা শিল্পের সম্ভাবনা ক্রমেই শ্রীরামপুরে বাড়ছে। আবার প্রচার থাকলেও শিল্প নিয়ে স্পষ্ট নীতি বিরোধীরা বলতে পারছে না। তৃণমূল অবশ্য একটি নীতি সামনে এনেছে। তবে সেসবের বাইরে ভোট মরশুমে আপাতত শিল্প-তরজায় মুখর শ্রীরামপুর।   
  • Link to this news (বর্তমান)