• জলপ্রকল্প ও ওভারব্রিজ, উন্নয়নের ‘ডাবল স্ট্রাইকে’ সাঁকরাইলে অ্যাডভান্টেজে তৃণমূল
    বর্তমান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: সাঁকরাইল স্টেশন সংলগ্ন রেলগেট— প্রতিদিনের ভোগান্তির এক পরিচিত ছবি। গেট নামলেই দু’পাশে দীর্ঘ যানজট, সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকে গাড়ি। চড়া গরমে নাকাল বাইক ও সাইকেল আরোহীরা। এর মাঝেই মানিকপুর থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের করুণ সাইরেন বারবার কানে বিঁধছে, কিন্তু গেট না উঠলে উপায় নেই। ক্ষোভ ঝরে পড়ছে স্থানীয়দের কথায়, ‘প্রতিদিনের এই যন্ত্রণা আর সহ্য হয় না, রেল ওভারব্রিজের কাজ দ্রুত শেষ হলেই বাঁচি।’ শুধু যাতায়াত নয়, রেললাইনের ওপারের একাধিক পঞ্চায়েতে দীর্ঘদিনের জলকষ্টও লক্ষ লক্ষ বাসিন্দার নিত্যসঙ্গী। যাতায়াত ও পানীয় জল— দুই সমস্যারই সমাধান আসন্ন, এই বার্তাকে হাতিয়ার করেই সাঁকরাইল বিধানসভায় জোরদার প্রচার করেছে তৃণমূল। অন্যদিকে, সংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিজেপির প্রচারে তেমন সাড়া মিলছে না বলে মনে করছেন অনেকে।

    দক্ষিণ সাঁকরাইল, মানিকপুর, সারেঙ্গা, বাণীপুর ১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েত সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের ধূলাগড়মুখী যাতায়াতের প্রধান বাধা এই রেলগেট। লোকাল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের পাশাপাশি ঘনঘন মালগাড়ি চলাচলের ফলে প্রায় প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর গেট বন্ধ হয়ে যায়। কখন গেট উঠবে, তার নিশ্চয়তা থাকে না। বহু সময় মালগাড়ি মাঝপথে দাঁড়িয়ে থাকলে বিপজ্জনকভাবে ট্রেনের নীচে দিয়ে পারাপার করতে বাধ্য হন মানুষ। এই সমস্যার সমাধানে পূর্তদপ্তরের উদ্যোগে নির্মীয়মাণ রেল ওভারব্রিজের কাজ ইতিমধ্যেই অর্ধেকের বেশি হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের দাবি, ভোটপর্ব শেষ হলেই বাকি কাজ সম্পূর্ণ হবে। পাশাপাশি, ১২০০ কোটি টাকার সাঁকরাইল জলপ্রকল্পের মাধ্যমে নলপুর, রঘুদেববাটি, সারেঙ্গা, কান্দুয়া সহ প্রায় ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতে পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর উদ্যোগকেও বড়ো সাফল্য হিসাবে তুলে ধরছে শাসকদল। অনেক বাসিন্দার কথায়, ‘যাতায়াত আর জল— দু’টি সমস্যাই মিটতে চলেছে। তৃণমূল সরকারের উন্নয়ন তো স্পষ্ট চোখে দেখা যাচ্ছে।’ এখানে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৪১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটেও মিলেছিল উল্লেখযোগ্য লিড। এবারও প্রার্থী প্রিয়া পালকে ঘিরে প্রচার গড়ে তুলেছে দল। নেতৃত্বের দাবি, গত পাঁচ বছরে প্রতিটি বুথে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন প্রিয়া। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৯০ হাজার মহিলা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি রাস্তা সংস্কার, আলোকায়ন, গঙ্গাপাড়ের সৌন্দর্যায়ন এবং হাজি এসটি মল্লিক গ্রামীণ হাসপাতালের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরা হচ্ছে। যদিও নিকাশি নিয়ে এখনও বিস্তার অভিযোগ রয়েছে। এই ইস্যুতেই বিজেপি প্রার্থী বর্ণালী ঢালি প্রচার চালাচ্ছেন। তবে ভোটারদের একাংশের মতে, সাংগঠনিক টানাপোড়েনে বিজেপির প্রচার এখনও গতি পায়নি। ফলে এই কেন্দ্রের বাসিন্দাদের অধিকাংশের মত, এখনও অবধি অ্যাডভান্টেজে তৃণমূল।
  • Link to this news (বর্তমান)