• আজ জগৎবল্লভপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সমাবেশ, ‘নো ফ্লাই জোন’ নিয়ে কড়াকড়ি প্রশাসনের
    বর্তমান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বীরভূমে মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলের কাছে ড্রোন ওড়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই হাওড়ায় তাঁর নির্বাচনি জনসভা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার জগৎবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বড়গাছিয়া হাসপাতাল মাঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্ধারিত জনসভাকে ঘিরে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ ও প্রশাসন।

    জেলা প্রশাসনের তরফে সোমবার জারি হওয়া নির্দেশ অনুযায়ী, সভাস্থলকে কেন্দ্র করে পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। এই এলাকায় ড্রোন বা ইউএভিএস ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি, ঘুড়ি ওড়ানোর উপরেও জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং ও প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। থানাগুলি এই কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু জেড প্লাস নিরাপত্তা পান, তাই তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি সতর্কতা বলে জানানো হয়েছে।

    এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতি ঘিরে বড়গাছিয়া এলাকায় সোমবার সকাল থেকেই তৎপরতা চোখে পড়েছে। মাঠ সাজানো থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা চলছে জোরকদমে। হেলিকপ্টার নামার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে হেলিপ্যাড, পাশাপাশি সভামঞ্চ পর্যন্ত অস্থায়ী রাস্তা তৈরির কাজও এগোচ্ছে দ্রুত। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে মাঠের যে অংশ কাদামাটিতে ভরে গিয়েছে, সেখানে বালি ফেলার কাজ চলছে। সমতল করা হচ্ছে ওই মাটি। যাতে জলকাদার সমস্যা আর না থাকে। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই মাঠেই মুখ্যমন্ত্রী সভা করেছিলেন, সেই সময় তৈরি হওয়া পুরনো হেলিপ্যাডটি সংস্কার করা হচ্ছে। এদিন সভাস্থল পরিদর্শন করেন হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের সুপার সুবিমল পাল সহ অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা।

    তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু জগৎবল্লভপুর কেন্দ্র থেকেই প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জমায়েত হবে আজ। পাশাপাশি আশপাশের কেন্দ্র থেকেও হাজার পনেরো মানুষের আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হতে চলেছে হাসপাতাল মাঠে। এই সমাবেশ উপলক্ষ্যে গোটা এলাকা পতাকা, ব্যানারে মুড়ে ফেলা হয়েছে। যাতে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ দূর দূর এলাকায় পৌঁছে যায়, সেকারণে চতুর্দিকে লাগানো হয়েছে অসংখ্য মাইক। তৃণমূল প্রার্থী সুবীর চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে এই সভায় যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সঙ্গে থাকবেন ডোমজুড়ের প্রার্থী তাপস মাইতিও। বিশেষভাবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা থেকে সভাস্থলে একটি বড়ো মিছিলের আসার কথা করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
  • Link to this news (বর্তমান)