নির্বাচনের মরশুমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টায় বিজেপি, চিঠি ঘিরে বিতর্ক
বর্তমান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিক্ষায় গৈরিকীকরণের চেষ্টা বিজেপি অনেকদিন ধরেই করে চলেছে। এমনটাই অভিযোগ তৃণমূলের। কিন্তু এবার বিধানসভা নির্বাচন পর্বে শিক্ষার আঙিনায় বিজেপি গেরুয়া থাবা বসানোর চেষ্টা করছে বলে সরাসরি অভিযোগ উঠল। বিষয়টি এমনই যে, স্কুল পরিচালন সমিতির কাছে চিঠি দিয়ে ভোট দেওয়ার আবেদন করছে রাজ্য বিজেপি। তৃণমূলের সরাসরি অভিযোগ, বিজেপি কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, এটা তার জ্বলন্ত প্রমাণ। শিক্ষার পরিমণ্ডলে যারা গেরুয়া থাবা বসাতে চাইছে, তাদের আদৌ কোনো নীতি-নৈতিকতা আছে কি না, সেটাই প্রশ্ন। বিতর্কের সূত্রপাত একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। কেন্দ্রীয় বোর্ডের স্কুলগুলির পরিচালন সমিতির সভাপতি, সম্পাদকদের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে রাজ্য বিজেপি। খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নাম করে এই চিঠি যাচ্ছে। ‘পরিবর্তনের ডাক’ দিয়ে ওই চিঠির মাধ্যমে সকলের সমর্থন চাওয়া হয়েছে। বিজেপি যদি বাংলায় ক্ষমতায় আসে, তাহলে কি কি ‘পরিবর্তন’ হবে, তার ফিরিস্তি দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।
কিন্তু এই চিঠিটি নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে শিক্ষা মহলে। শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, স্কুল সবসময় রাজনীতির উর্ধ্বে থাকে। কোনো স্কুল-প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা যায় না। সেখানে স্কুলের পরিচালন সমিতির প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারির কাছে রাজ্য বিজেপির তরফে পাঠানো চিঠির পিছনে রাজনীতি রয়েছে। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার বার্তা পাঠিয়ে কার্যত স্কুল পরিচালন সমিতির উপর বিজেপি চাপ তৈরি করতে চাইছে বলে অভিযোগ। শিক্ষার আঙিনায় সরাসরি রাজনীতিকরণের চেষ্টা করছে বিজেপি, এমন অভিযোগ উঠে গিয়েছে এই চিঠির সূত্র ধরে।
কেন এই চিঠি? সেবিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে। প্রথমে তিনি বলেন, সমাজের বিশিষ্ট মানুষ থেকে বাংলার সকলের কাছে আমরা চিঠি পাঠিয়ে বিজেপিকে সমর্থন করার আবেদন করছি। কিন্তু প্রশ্ন হল, স্কুল পরিচালন সমিতিকে কি পাঠানো যায়? শমীকের বক্তব্য, ওই চিঠি আমাকে একবার পাঠান। আমি দেখে নিয়ে বলছি। সেইমতো হোয়াটসঅ্যাপে শমীকবাবুকে চিঠি পাঠানো হয়। তিনি সেটি দেখেছেন। কিন্তু তারপর তিনবার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ করেও শমীকবাবুর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।