কর্মচারীকে মারধর করে গরম দুধের কড়াইয়ে মুখ চুবিয়ে ধরার অভিযোগ, সোদপুরে ধৃত পুত্র সহ দোকান মালিক
বর্তমান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কাজ নিয়ে বচসা হয়েছিল মালিক ও কর্মচারীর মধ্যে। তার জেরে কর্মচারীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল মিষ্টি দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, গরম দুধের কড়াইয়ে কর্মচারীর মুখ চোবানো হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় সোমবার পানিহাটিতে শোরগোল পড়ে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই দোকান মালিক ও তাঁর ছেলেকে মারধর করে। পরে ঘোলা থানার পুলিশ অভিযুক্ত দোকান মালিক ও তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম অমরেন্দ্র ঘোষ ও তাঁর ছেলে অলয় ঘোষ। সোদপুর কালীতলা এলাকায় অমরেন্দ্র ঘোষের মিষ্টির দোকান রয়েছে। তাঁর ছেলের নাম অলয় ঘোষ। ওই দোকানে সঞ্জীব পাল নামের এক ব্যক্তি কাজ করতেন। সোমবার সকালে অন্যান্য দিনের মতো সঞ্জীব দোকানে কাজে এসেছিলেন। কাজ নিয়ে মালিকের সঙ্গে সঞ্জীবের ঝামেলা হয়। এরপর তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সঞ্জীববাবু বলেন, কাজে একটা ভুল হয়েছিল। সেই কারণে আমাকে মারধর করা হয়। গরম দুধে ভরা বালতিতে আমার মুখ চুবিয়ে দেওয়া হয়। এতে আমার দাঁতে চোট লেগেছে। কিছুটা অংশ পুড়ে গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীর শরীর পুড়ে গিয়েছে। আমরা এর শাস্তি চাই। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তর্কাতর্কির পর বাবা ও ছেলে মিলে ওই কারিগরের মুখ গরম দুধের কাছে নিয়ে গিয়ে চুবিয়ে দেন। ভয়ঙ্কর বিপদ হতে পারত। যদিও দোকান মালিক অমরেন্দ্র ঘোষ পাল্টা দাবি করেন, সঞ্জীবের কাছে বেশ কিছু টাকা পেতাম। ওই টাকা তিনি দিচ্ছিলেন না। এদিন কাজে আসার পর সঞ্জীবের কাছে পাওনা টাকা চেয়েছিলাম। কিন্তু সঞ্জীব টাকা না দেওয়ায় বচসা হয়। ধাকাধাক্কিতে পড়ে গিয়ে ওর থুতনি কেটে যায়। গরম দুধে মুখ চোবানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন। যদিও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দোকান মালিক ও তাঁর ছেলেকে মারধর করেন। পরে পুলিশ ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করে।