লালবাজারকে তোপ নির্বাচন কমিশনের, দুষ্কৃতীদের আড়াল করার অভিযোগ তুললেন উত্তর কলকাতার ডিইও
বর্তমান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের নির্বাচন কমিশনের তোপের মুখে কলকাতা পুলিশ। কলকাতায় বেআইনি নির্মাণে যুক্ত গুন্ডাদের নাম কেন দাগীদের তালিকায় ঠাঁই পায়নি, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন উত্তর কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও স্মিতা পাণ্ডে। বৈঠকে বেআইনি নির্মাণে যুক্তদের নাম দ্রুত এই দাগীদের তালিকায় যোগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুরপথে কার্যত তথ্য গোপনের মতো মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন দক্ষিণ কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও রণধীর কুমার। এদিকে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ান থাকা ব্যক্তিদের ধরার ক্ষেত্রে সক্রিয় নয় কলকাতা পুলিশ। এমনই অভিযোগ করেছে কমিশন।
রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা ভোট নিয়ে রবিবার এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসক বা নিবার্চনী আধিকারিক, এসপি, কলকাতার সিপি, রাজ্য পুলিশের সব কমিশনারেটের সিপিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই বৈঠকে লালবাজারকে এভাবেই কার্যত কাঠগড়ায় তুলেছেন কলকাতার দুই নির্বাচনী আধিকারিক। উত্তর কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিক স্মিতা পান্ডে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার উপস্থিতিতে বলেন, কলকাতায় দাগী দুষ্কৃতীর সংখ্যা মাত্র ৩৪৫। এটা অবিশ্বাস্য। মনে হচ্ছে কলকাতা পুলিশ দুষ্কৃতীদের প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করতে চাইছে। প্রসঙ্গত শনিবারই কলকাতা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার, যুগ্ম কমিশনার (সদর) মিরাজ খালিদ, ডিসি(নর্থ) দীনেশ কুমার, ডিসি (সাউথ) দীপক সরকার সহ গুন্ডা দমন শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার দেবজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিয়েছে অসন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন।
কমিশন সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন কলকাতায় জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে। লালবাজার সূত্রে খবর, গোয়েন্দা বিভাগ এখনও ৯৪টি পরোয়ানা কার্যকর করতে পারেনি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশের যে ডিভিশন সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত, সেই ভাঙরেই ৯০ জন এখনও ধরা পড়েনি। বন্দর বিভাগ ৮৯ জন জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা ব্যক্তিকে ধরতে পারেনি। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব ডিভিশনে ৬১টি, পূর্ব ডিভিশনে ৫৯টি, দক্ষিণ বিভাগে ৪৯টি পরোয়ানা থাকা ব্যক্তিরা ধরা পড়েনি বলে জানা যাচ্ছে। এর বাইরে অন্য ডিভিশনেও এই ধরনের কেস থাকা ব্যক্তিরা পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। সেই কারণে লালবাজার সমস্ত থানাকে নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারির সংখ্যা কমিয়ে ফেলা যায়। রবিবারের বৈঠকে ২০২১ সালের সেই ভোট পরবর্তী হিংসার কথাও উঠে এসেছে। দক্ষিণ কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও রণধীর কুমার বলেন, ‘কলকাতা পুলিশের দেওয়া দাগীদের তালিকায় ভোট পরবর্তী হিংসায় যুক্তদের নামের উল্লেখ নেই। অবিলম্বে এই নাম তালিকায় যোগ করতে হবে।’ এনিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দাকে মেসেজ করা হলে তিনি জানান, ‘এটা আমাদের ইন্টারনাল বিষয়। এবিষয়ে আমার বাইরে কিছু বলার নেই। তবে এই বৈঠকের পরই ২০২১ ও ২০২৪ সালে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় চার্জশিট হওয়া ব্যক্তিদের নাম ‘ট্রাবল মঙ্গার’ লিস্টে রাখতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। তাদের নামের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে থানাগুলির কাছে। এক জনৈক ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনকে ইমেল করে জানিয়েছিলেন সার্ভিস রুল লঙ্ঘন করে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের ওয়েলফেয়ার শাখার কিছু সদস্যরা রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচার করছেন। সেই ঘটনায় কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের কাছে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন।