বৈশাখের শুরুতেই ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস দশা বঙ্গবাসীর। চড়া রোদে বাইরে বেরনো দায়। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গরমের এমন ছবি ধরা পড়েছে দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যেই। এখন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর দিকে তাকিয়ে ছাড়া কোনও উপায় নেই। কিন্তু সেই পথেও বাধা আসতে চলেছে। সোমবার দিল্লির মৌসম ভবন জানিয়ে দিল, এ বছর দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কিছুটা কম বৃষ্টিপাতের (Below Normal Rainfall) সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় ১১ বছর পরে প্রথম এমন ইঙ্গিত দিল আবহাওয়া দপ্তর।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়টাই মূলত বর্ষাকাল (Monsoon) ধরা হয়। দেশে দীর্ঘকালীন গড় (১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের হিসেব) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৮৭ সেন্টিমিটার। কিন্তু চলতি বছরে তার ৯২ শতাংশ মানে প্রায় ৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। ইন্ডিয়া মেটালর্জিক্যাল ডিপার্টমেন্টের (India Meteorological Department) ডিরেক্টর এম মহাপাত্রর মতে, এর প্রধান কারণ এল নিনো। প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিক ভাবে গরম হয়ে ওঠার কারণে বাতাসের দিক বা গতি বদলে যায়। তার প্রভাব পড়ে মেঘ তৈরির ধরনে। ফলে বৃষ্টি কম হয়।
আবহাওয়া দপ্তরের এহেন পূর্বাভাসে কৃষকদের চিন্তা বাড়ছে। চাষবাস মূলত বৃষ্টির উপরেই নির্ভরশীল। তার উপরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে সার সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় যদি বৃষ্টি কম হয়, তা হলে খারিফ ফসলের উপরে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সুখবরও রয়েছে। ইন্ডিয়ান ওসেন ডাইপোলের ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হলে, বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এতে ভারত মহাসাগরের পশ্চিম দিকের (আফ্রিকা) জল গরম হয়, আর পূর্ব দিকে (ইন্দোনেশিয়া) ঠান্ডা। এর ফলে ভারতে বেশি মেঘ তৈরি হয়। বৃষ্টির সম্ভাবনাও বাড়ে। তাছাড়া উত্তর গোলার্ধে এ বার তুষারপাত কিছুটা কম হয়েছে। সেটাও বৃষ্টির পক্ষে সহায়ক। পশ্চিমবঙ্গের চিত্রটাও আলাদা নয়। গোটা রাজ্যেই স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তবে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে।
গত দুই বছর দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ২০২০-র সালের পর থেকে কোনও বছরেই (২০২৩ বাদে) এর অন্যথা হয়নি। মে মাসে নতুন আপডেট দেবে আবহাওয়া দপ্তর। তবে এপ্রিলের পূর্বাভাস সব সময়েই যে মিলে গিয়েছে, তা নয়। ব্যতিক্রমও রয়েছে। তাই এখনও নিশ্চিত ভাবে কিছু ধরে নেওয়া ঠিক হবে না বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তবে তাঁদের মতে, সতর্ক থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।