• চিকিৎসাতেও ধর্ম-রাজনীতির ছায়া! ভিজ়িটে ছাড় ‘জয় শ্রীরাম’ বললেই, বিতর্কে ডাক্তার
    এই সময় | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: চিকিৎসকের রোগী দেখার মধ্যেও এ বার ধর্ম–রাজনীতির ছায়া!

    চেম্বারে ঢুকে ‘জয় শ্রীরাম’ বললে ৫০০ টাকা ডিসকাউন্ট মিলবে কনসাল্টেশন ফি-তে। অনলাইন বুকিংয়েও ব্যবস্থা করা হয়েছে ডিসকাউন্ট পাওয়ার উপযোগী কিউআর কোড স্ক্যানিংয়ের। বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রকাশকুমার হাজরার এমন পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে চিকিৎসক মহলের বড় অংশে। কড়া সমালোচনা করে ‘হিপোক্রেটিক ওথ’-এর কথা তাঁকে মনে করিয়েছেন সতীর্থরা। প্রকাশকে চিঠি দিয়ে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)–এর বঙ্গীয় শাখা সতর্ক করেছে— রোগীদের মধ্যে এমন বৈষম্য করা যায় না। অভিযুক্ত চিকিৎসকের অবশ্য বক্তব্য— ‘জয় শ্রীরাম একটা স্লোগান। ধর্মীয় স্লোগান নয়, রাজনৈতিক স্লোগান। আমি বিজেপিতে বিশ্বাস করি, মোদীজিকে বিশ্বাস করি। ডাক্তারি করা মানে রাজনীতি করতে পারব না, এটা হতে পারে না।’

    যদিও পোস্ট ভাইরাল হয়ে চিকিৎসক মহলে বিতর্ক বাড়ার পরে কিছুটা হলেও চাপে পড়েছেন শহরের ওই নামকরা ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজিস্ট। তাঁর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে চিঠি দিয়েছে আইএমএ–র রাজ্য শাখা। সংগঠনের তরফ থেকে এই আচরণের জন্যে প্রকাশের কাছে তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক দেশে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত বা সমর্থনের অধিকার থাকলেও রোগীর ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে চিকিৎসা ফি-তে বৈষম্য করা চিকিৎসা নীতির পরিপন্থী এবং পেশাগত আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন। আইএমএ-র তরফে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে সংগঠনের সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

    যদিও আইএমএ–র কোনও চিঠি পাননি দাবি করে প্রকাশ জানান, চিঠি পেলে উত্তর দেবেন। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ‘আমি সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে চাই। কোনও বাধ্যবাধকতা নেই যে জয় শ্রীরাম বলতেই হবে। যাঁরা বলবেন, তাঁরা ছাড় পাবেন। আমি বিজেপির জন্যে কিছু করতে চাই। কিন্তু এই ঘোষণার পর থেকেই আমার উপরে ফেসবুকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, ফোনে ধমকানো হচ্ছে। ভয় দেখানো হচ্ছে।’ তিনি এর পরেও একাধিক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তাঁর ক্লিনিকের মোবাইল নম্বর ও কিউআর কোড স্ক্যান করে রোগীদের ছাড় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    এর নিন্দা করে আইএমএ–র রাজ্য সম্পাদক তথা তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা আমার দল তৃণমূল— কেউ কখনও আমাকে আমার এই মহৎ পেশাকে কলুষিত করতে শেখায়নি, রোগীদের ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করতে তো নয়ই। লজ্জা! লজ্জা!’ অন্য একাধিক চিকিৎসক সংগঠনও প্রকাশকুমার হাজরার ফেসবুক পোস্টের সমালোচনা করেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, চিকিৎসা পরিষেবা এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে ধর্ম, রাজনীতি বা ব্যক্তিগত মতাদর্শের কোনও স্থান থাকা উচিত নয়। রোগী-চিকিৎসক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত সম্পূর্ণ আস্থা ও সমতা। এই ধরনের ঘটনা সেই আস্থার ভিতকেই নড়বড়ে করে দিতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)