এই সময়, খড়্গপুর: বিজেপি নেতা ও পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী দিলীপ ঘোষ একসময়ে তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর এই দাবির পাল্টা জবাবে দিলীপের বক্তব্য, তৃণমূল একটা ডাস্টবিন। যেখানে মাছ বাজারের মতো এতটাই দুর্গন্ধ ছড়ায় যে, কেউ বেশি দিন থাকতে পারে না।
সোমবার খড়্গপুরের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকারের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন ফিরহাদ। গত লোকসভা ভোটে মেদিনীপুর আসনে দিলীপের টিকিট না পাওয়া নিয়ে তাঁর নাম না করে কটাক্ষ করেন তিনি। ফিরহাদ বলেন, 'বিজেপি এমন একটা দল, কখন কাকে কী করে কেউ জানে না। এই ভদ্রলোক (দিলীপ) যে দাঁড়িয়েছেন, তাঁকে হঠাৎ এমপি সিট থেকে তাড়িয়ে দিল। তিনি চলে গেলেন দুর্গাপুরে। যিনি (অগ্নিমিত্রা পল) এলেন, তিনি আমাদের কাছে গোহারা হারলেন।' এর পরেই ফিরহাদের বিস্ফোরক অভিযোগ, ওই ঘটনার পরেই দিলীপ নাকি তৃণমূলে আসতে চেয়েছিলেন! তিনি বলেন, 'মেদিনীপুরে টিকিট না পাওয়ার পরে উনি বললেন, এই দল আর করা যাবে না। আমাদের অফার দিলেন। বললেন, আর দরকার নেই বিজেপির। এ বার যদি তৃণমূল ঠাঁই দেয়, তা হলে সেখানেই চলে যাবেন। আবার মোদী সাহেব এসে একটু হ্যান্ডশেক করে বললেন, কই বিয়ের মিষ্টি তো পেলাম না। সঙ্গে সঙ্গে গলে গেলেন। টিকিটও পেয়ে গেলেন।'
'সার'- প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের 'দেশদ্রোহী' বলেও মন্তব্য করেছিলেন দিলীপ। যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। রবিবার বিজেপি-র পার্টি অফিসে এই নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় মানুষ। এ বিষয়ে ফিরহাদ বলেন, 'যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে, তাঁরা দেশদ্রোহী নন। আপনারা দেশদ্রোহী। আপনারা সংবিধান মানেন না। তাই ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছেন।' দিলীপকে বহিরাগত বলেও খোঁচা দিয়ে ফিরহাদের সংযোজন, 'প্রদীপ আমাদের ঘরের ছেলে। যখন চাইবেন তখন পাবেন। তাই আশা করব, এ বার খড়্গপুরে আমাদের প্রদীপকে-ই জেতাবেন।'
পাল্টা তোপ দাগেন দিলীপও। তাঁর কথায়, 'তৃণমূল কেমন আমরা সবাই জানি। অচল এক পয়সা, দু'পয়সার মতো। তৃণমূলের অবস্থা এখন এমনই। পার্টি এমন নোংরা হয়েছে, যেন মাছ বাজারের দুর্গন্ধ আসে। কিছু লোক তৃণমূলের মতো ডাস্টবিনে ভুলে চলে গিয়েছিলেন।এখন সবাই গঙ্গাজলে নিজেদের পরিষ্কার করতে বিজেপিতে ফিরে এসেছেন।' পড়াশোনা থেকে চিকিৎসা, কর্মসংস্থানের জন্য মানুষকে ভিনরাজ্যে যেতে হচ্ছে বলেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ।