শুভাশিস সৈয়দ
এক সঙ্গে ওঠাবসা, চলাফেরা সবই রয়েছে। দেখা–সাক্ষাৎ হলে মুচকি হাসি, পাড়ার মোড়ে সন্ধ্যার চায়ের আড্ডা, হাসি–ঠাট্টা বাদ পড়েনি কিছুই। কিন্তু তার পরেও কোথাও যেন সুর-তাল-লয় কেটে গিয়েছে!
এক বছর আগে ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এলাকায়। খুন হন বাবা হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে চন্দন দাস। হিংসা ও খুনের ঘটনায় জড়িতদের আজীবন কারাদণ্ড হয়েছে। সেই ঘটনা কোথাও যেন সম্প্রীতিতে ফাটল ধরিয়েছে। তবে বাইরে থেকে তার আঁচ পাওয়া কঠিন।
সামশেরগঞ্জের পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ, ধুলিয়ানের তিন বারের পুরপ্রধান ও বিধানসভা নির্বাচন কমিটির কংগ্রেসের চেয়ারম্যান সফর আলি বলেন, 'এখন সামশেরগঞ্জ শান্ত। কিন্তু ওই ঘটনা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে চিড় ধরিয়েছে। ঘটনাটি এখানকার মানুষকে শাসকদলের বিরোধী করে তুলেছে। ফলে বিধানসভা ভোটে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের একটা অংশ যেমন বিজেপিকে ভোট দেবেন, অন্য একটা অংশ তেমনই কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেবেন।'
গত ১২ এপ্রিল হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের মৃত্যুবার্ষিকীতে সামশেরগঞ্জ থানার তিনপাকুড়িয়া পঞ্চায়েতের জাফরাবাদ গ্রামে স্মরণসভা করে বিজেপি। ওই সভায় হাজির ছিলেন মৃত হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী পারুল। বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে গত ৮ এপ্রিল দক্ষিণ মালদা মহিলা মোর্চা যে সম্মেলন করেছিল, সেখানেও শাশুড়ি-বৌমা পারুল ও পিঙ্কি দাস হাজির ছিলেন। পারুল বলেন, 'বিজেপি প্রথম থেকেই আমাদের সঙ্গে ছিল। শুভেন্দু অধিকারী খোঁজখবর নেন। তৃণমূল বা সিপিএম থেকে কেউ আসেননি।' বিজেপির মণ্ডল সভাপতি শ্যামল ঘোষের কথায়, 'ঘটনার পর থেকে এলাকায় আধা সামরিক বাহিনী রয়েছে। কিন্তু সামান্য ঝুট-ঝামেলাতেই ভয় করে।'
তবে এলাকাবাসীর মনে ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিকে পিছনে ফেলে স্থান করে নিয়েছে ভোটের উত্তাপ। ধুলিয়ান পুরসভার বেদবোনা এলাকার যুবক দেবব্রত ঘোষ বলেন, 'এলাকা এখন শান্ত। তবে সার–এ ৬০-৭০ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তা নিয়েক্ষোভ রয়েছে।' তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক আমিরুল ইসলামকে সামশেরগঞ্জ আসন থেকে সরিয়ে ফরাক্কার প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছে বিড়ি ব্যবসায়ী নুর আলমকে। কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ নাজমে আলমও পেশায় বিড়ি ব্যবসায়ী। বিজেপি মাঠে নামিয়েছে অশীতিপর বৃদ্ধ ষষ্ঠীচরণ ঘোষকে। সামশেরগঞ্জ আসনে আইএসএফ প্রার্থীকে সমর্থন করেছিল সিপিএম। কিন্তু তাঁর প্রার্থিপদ বাতিল হয়ে যায়। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সোমনাথ সিংহ রায় বলেন, 'সামশেরগঞ্জ শান্ত। কিন্তু দগদগে ক্ষত ভেতরেভেতরে রয়েছে।' তৃণমূলের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, 'দোষীদের ধরে সাজা দিতে প্রশাসনের বড় ভূমিকা রয়েছে। এখানে তৃণমূলই ভোট পাবে।'