নয়ডার অশান্তিতে পাক যোগ? এমনই অভিযোগ উঠে এল মঙ্গলবার। উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার নেয় সোমবার। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। ভাঙচুর করা হয় একাধিক কারখানা ও অফিসে। পুলিশকে লক্ষ্য করে যথেচ্ছ ইট, পাথরও ছোড়া হয়। সামান্য কর্মী বিক্ষোভ এমন হিংসাত্মক চেহারা নেওয়ার পিছনে পাক যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের একাংশের। ওই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নয়ডা ফেজ–২ এলাকার একাধিক কারখানার শ্রমিকরা মূলত বেতন বৃদ্ধি, ওভারটাইমের পারিশ্রমিক এবং কাজের পরিবেশের উন্নতির দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ জমে উঠছিল, যা আচমকাই ভয়াবহ রূপ নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ হলেও পরে তা হিংসাত্মক রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ রাস্তায় নেমে যানবাহন ভাঙচুর করে, বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগও ওঠে। বিভিন্ন জায়গায় পাথর ছোড়া হয়, ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হয়।
উত্তরপ্রদেশের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর সোমবার নয়ডায় শ্রমিকদের বিক্ষোভের পিছনে ‘সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। রাজভর উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি নয়ডা ও মিরাট থেকে চারজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলারদের যোগসূত্র থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার পিছনে কোনও বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি বাইরের কোনও গোষ্ঠী বা বিদেশি যোগসূত্র আছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্তভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জনকে গ্রেপ্তার এবং আরও ১০০ জনেরও বেশি লোককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এই অশান্তির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছে।