এই সময়, বাদুড়িয়া: বদুড়িয়ার লক্ষ্মীনাথপুরে ইছামতী নদীর উপরে ১০০ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হচ্ছে নতুন সেতু। কিন্তু অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় সেতুটি এখনও চালু করা যায়নি। এই টালবাহানা নিয়ে ভোটের মুখে শাসকদলকে বিঁধছেন বিরোধীরা। তা নিয়ে কিছুটা হলেও ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। এই অবস্থায় সোমবার বিকালে বাদুড়িয়ার আড়বেলিয়ায় তৃণমূল প্রার্থী বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটনের সমর্থনে এক নির্বাচনী জনসভায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় আশ্বাস দিলেন, নির্বাচন পর্ব মিটলেই ওই সেতুর উদ্বোধন হবে। পাশাপাশি বাদুড়িয়ার কৃষকদের জন্য তৈরি হবে হিমঘর।
ভিড়েঠাসা জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক জানান, বাদুড়িয়া বিধানসভার মানুষের দাবি ছিল, ইছামতী নদীর উপরে লক্ষ্মীনাথপুরে একটা সেতুর। ১০০ কোটি টাকা খরচ করে সেতু তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। সেতুটি ২৫ ফুট চওড়া এবং ৫০০ মিটার লম্বা। সেতুটি খুব শিগগির উদ্বোধন হবে। এছাড়াও বাদুড়িয়ায় রেজিস্ট্রি অফিসের পাশে কৃষাণ মাণ্ডি তৈরি হয়েছে। কৃষকরা সেখানে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারবেন। বাদুড়িয়ার কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে একটা কোল্ড স্টোরেজ তৈরির দাবি জানিয়ে আসছেন। বাদুড়িয়া কেন্দ্রে লিটন জেতার পরে আগামী জুন-জুলাই মাস থেকে বাদুড়িয়ায় হিমঘর তৈরি করবে রাজ্য সরকার। মঞ্চ থেকে এ ব্যাপারে সবাইকে আশ্বস্ত করেন অভিষেক।
বাদুড়িয়ার বিধায়ক আবদুর রহিম দিলু তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়া নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকেননি। যখন সার–এ মানুষের নাম বাদ পড়ছে, তখন দিলুবাবুকে দেখা যায়নি। আপনি মানুষের পাশে থাকবেন না। মানুষের পাশে যিনি থাকবেন, তাঁকে তৃণমূল মর্যাদা দেবে।’ সেই সঙ্গে অভিষেক বলেন, এ বার ‘যারা আমাদের লাঞ্ছিত, বঞ্চিত করেছে, তাঁদের কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে। ধরে নেবেন বাদুড়িয়ার বিধায়ক আমি। বাদুড়িয়ার দায়িত্ব আমি কাঁধে তুলে নিলাম। বাদুড়িয়া উন্নয়নের সব ভার আমার।’
বিজেপির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা কী করব, কার সঙ্গে কোন ভাষায় কথা বলব, কী খাব, তা দিল্লির বহিরাগত নেতাদের ঠিক করতে দেব না। বাদুড়িয়ার দায়িত্ব আপনাদের, আর এদের বাংলা জুড়ে লেজেগোবরে করার দায়িত্ব আমার। প্রথম দফার ভোটে মানুষ গণতান্ত্রিক ভাবে এদের ঘাড় মাথা ভাঙবে। আর দ্বিতীয় দফায় গনতান্ত্রিক ভাবে এদের কোমর, হাঁটু, পা, ভেঙে মানুষ জবাব দিয়ে ওদের খাটে তুলে বিদায় দেবে।’ এরপরই বলেন, ‘লাইনে দাঁড় করানোর জবাব, লাইনে দাঁড়িয়েই দিতে হবে। সব ভো কাট্টা।’