চড়া শুল্কের বিনিময়ে হরমুজ পারের অনুমতি পাচ্ছে ভারতের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলি! মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝে এই তথ্যে শোরগোল পড়েছিল দেশে। সেই জল্পনায় এবার দাঁড়ি টানল খোদ ইরান। সম্প্রতি দেশের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ইস্যুতে মুখ খুললেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালি। তিনি জানালেন, হরমুজ পার হওয়ার জন্য ভারতকে কোনও শুল্ক দিতে হচ্ছে না। ভবিষ্যতেও হরমুজে ভারতের জন্য অবাধ যাতায়াতের অনুমতি থাকবে।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ ১৮’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানি রাষ্ট্রদূত ফাতালিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল হরমুজে ভারতীয় জাহাজের উপর কোনওরকম শুল্ক নেওয়া হচ্ছে কিনা। উত্তরে তিনি বলেন, “আপনারা ভারত সরকারকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে আমরা এখনও পর্যন্ত ভারতের জাহাজ থেকে কোনও অর্থ নিয়েছি কিনা। এই কঠিন সময়েও আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভারত ও ইরানের সম্পর্ক এক হতে পারে।”
এছাড়াও ভারতীয় জাহাজগুলিকে নিরাপদে হরমুজ পারাপারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, “ভারত ও ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় ও আস্থাপূর্ণ। কঠিন সময়ে ভারত নিজেকে ইরানের একজন বিচক্ষণ ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে প্রমাণ করেছে এবং দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধনও অত্যন্ত গভীর।” হরমুজ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, “ভবিষ্যতেও ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। ইরান এমন একটি ব্যবস্থার কথা জানাবে যেখানে জাহাজ চলাচলের প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা থাকবে।”
হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “ভারত সরকারের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় ও আস্থাপূর্ণ। কঠিন সময়ে ভারত নিজেকে একজন বিচক্ষণ ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে প্রমাণ করেছে এবং দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধনও অত্যন্ত গভীর।” এদিকে সোমবার দেশের নৌপরিবহণ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, হরমুজে বর্তমানে আটকে থাকা ১৫টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সচিব, “আমরা বিদেশমন্ত্রকের সহযোগিতায় আমাদের জাহাজগুলোকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি অনুকূল হলেই এবং জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করার অনুমতি দেওয়া হলেই সেগুলোকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।”