শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে মধ্যরাতে হাইভোল্টেজ বৈঠক, তড়িঘড়ি বেতন বৃদ্ধি যোগী সরকারের
প্রতিদিন | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
শ্রম আইন মেনে মজুরি বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবিতে সোমবার উত্তাল হয়ে উঠেছিল উত্তরপ্রদেশের নয়ডা। শ্রমিকদের ক্ষোভ সামাল দিতে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করল যোগী সরকার। মধ্যরাতেই শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের গঠিত কমিটি। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া শোনার পর গভীর রাতেই ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমস্ত অসংগঠিত ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মজুরি ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হবে এই সিদ্ধান্ত।
এক সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, নয়া বেতন কাঠামো অনুযায়ী গৌতম বুদ্ধ নগর এবং গাজিয়াবাদের অদক্ষ শ্রমিকরা এখন প্রতিমাসে ১১,৩১৩ টাকার বদলে ১৩,৬৯০ টাকা করে পাবেন। আংশিক দক্ষ শ্রমিকরা পাবেন ১৫,০৫৯ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকরা পাবেন ১৬,৮৬৮ টাকা। শুধু তাই নয়, পুরসভা এলাকাগুলিতে অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরি বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৩,০০৬ টাকা, আংশিক দক্ষ শ্রমিকদের ১৪,৩০৬ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের বেতন হবে ১৬,০২৫ টাকা। বাকি জেলাগুলিতে অদক্ষ, আংশিক দক্ষ এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য এই বেতন হবে যথাক্রমে ১২৩৫৬, ১৩৫৯১ এবং ১৫২২৪ টাকা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মজুরি বৃদ্ধি এবং উন্নত কর্ম পরিবেশের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন নয়ডার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। এই আন্দোলনের সূত্রপাত হরিয়ানা সরকারের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে, যেখানে অদক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। এর পরই নয়ডা-র শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করে। তাঁদের দাবি, পাশের রাজ্যে একই ধরনের কাজের জন্য বর্ধিত মজুরি দেওয়া হলে উত্তরপ্রদেশেও মজুরির হার বাড়াতে হবে। বিক্ষোভকারী বক্তব্য, একই কাজের জন্য এক এক রাজ্যে মজুরির হার ভিন্ন হলে তা বৈষম্যের শামিল। তবে শুধু মজুরি নয়, শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রের একাধিক সমস্যার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, অনেক কারখানাতেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। নিয়মিত মেলে না সাপ্তাহিক ছুটি। কোনও সমস্যা হলে তা নিষ্পত্তি করার মতো পরিকাঠামো নেই বলে অভিযোগ।
এরপর সোমবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি চরমে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা হিংস্র হয়ে ওঠে। ভাঙচুর করা হয় বহু গাড়ি। এমনকী সেগুলিতে অগ্নিসংযোগও করা হয় বলে অভিযোগ। এরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা পুলিশ কর্মীদের উপরও হামলা করতে শুরু করে বলে অভিযোগ। শুরু হয় পাথরবৃষ্টি। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় পুলিশ। গুরুতর এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি। গঠন করা হয় কমিটি। রাতেই বৈঠকে বসে অবশেষে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিল সরকার।