বেতন বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবিতে পাঁচ দিন ধরে উত্তাল নয়ডা। সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় নয়ডার বহু এলাকা। ওই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে। নয়ডার শিল্পাঞ্চলের বিক্ষোভ কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। টানা চার দিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ধিকিধিকি জ্বলছিল। তার পরেও কেন পুলিশ প্রশাসন নীরব ছিল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
সোমবার নয়ডার ৮০টিরও বেশি কারখানায় ভাঙচুর চালানো হয় এবং বেশ কিছু জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধের ফলে টানা তিন ঘণ্টা কার্যত অচল হয়ে পড়ে হাই-টেক সিটি নয়ডা। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতেই তড়িঘড়ি উত্তরপ্রদেশ সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা করে।
৯ এপ্রিল থেকেই নয়ডার কারখানাগুলোর সামনে শ্রমিকরা জমায়েত হচ্ছিলেন। তাঁরা প্রকাশ্যে স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। ১০ এপ্রিল পরিস্থিতি বুঝে ট্র্যাফিক ডাইভারশনও করা হয়েছিল। অর্থাৎ, প্রশাসনের কাছে খবর ছিল, বড় গোলমাল হতে পারে। তবুও শিল্পাঞ্চলগুলিতে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়নি বা অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি কেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সোমবার যখন শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখান, তখন অনেক জায়গায় মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন পুলিশকর্মী ছিলেন। তাঁরা দাঁড়িয়ে তাণ্ডব দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি।
নয়ডা পুলিশের লোকাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মূল কাজ হলো আন্দোলনের উপর নজর রাখা। হাজার হাজার শ্রমিক পাঁচ দিন ধরে জমায়েত করলেও গোয়েন্দারা কেন সঠিক রিপোর্ট দিতে পারলেন না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদি তাঁরা রিপোর্ট দিয়েও থাকেন, তবে কেন পুলিশ আধিকারিকরা কোনও আগাম ব্যবস্থা নিলেন না, তা-ই এখন সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৩ এপ্রিল সোমবার সেক্টর ৫৯, ৬২, ৬৩ এবং ফেজ-২ এলাকায় ভয়াবহ হিংসা ছড়ায়। বহু কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষ রাস্তায় আটকে পড়েন। সোমবার নয়ডার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যত ভেঙে পড়েছিল। পরে পুলিশ দাবি করে, তারা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যে ৭টি মামলা রুজু হয়েছে এবং বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
সোমবারের নৈরাজ্যের পরে ওই রাতেই যোগী সরকার তড়িঘড়ি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন বেতন বৃদ্ধির নির্দেশ ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি বাড়ানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এটি একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত। খুব শীঘ্রই ওয়েজ বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতনের স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে নয়ডার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করেছে গৌতম বুদ্ধ নগর পুলিশ কমিশনারেট। কিন্তু মঙ্গলবারও অশান্ত নয়ডার একাধিক এলাকা।