• ভোটের ভূরিভোজে দামের ছ্যাঁকা পকেটে, আমজনতার নাগালের বাইরে মুরগির মাংস
    এই সময় | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • রূপক সরকার, বালুরঘাট

    আর দিন দশেক বাদেই ভোট। তাই সব কিছু ভুলে এখন প্রচারেই ব্যস্ত সব দলের কর্মীরা। এই দীর্ঘ প্রচারপর্বের শেষ বেলায় এসে যাতে কর্মীদের ক্লান্তি গ্রাস না করে, তাই তাঁদের 'মনোরঞ্জন'-এর ব্যবস্থা করতে হচ্ছে সব দলকেই। অনেক জায়গাতেই প্রচার শেষে পিকনিকের আয়োজন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বড় হাতিয়ার মাংস। রাতে মাংস-ভাত বা প্যাকেটে ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেনের ব্যবস্থা অনেক প্রার্থীই করছেন। দলের কর্মীদের মাংস খাওয়ানোর আঁচ এসে পড়েছে দামে। দাম বাড়ছে মাংসের। যার ফলে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ভোটপর্ব শেষ না হলে মাংসের দামে বিশেষ স্বস্তি মিলবে না।

    মূলত ব্রয়লার মুরগির চাহিদা সব থেকে বেশি। প্রতিদিনই কম বেশি মুরগির মাংসের দাম বেড়ে চলেছে। মাস খানেক আগেও বালুরঘাটের বাজারে কাটা মুরগি মাংসের দাম ছিল ১৭০-১৮০ টাকা প্রতি কিলো। বর্তমানে সেই দাম প্রায় ৩০০ টাকা ছুঁতে চলেছে। একই রকম ভাবে দেশি মুরগি ও খাসির মাংসের দাম বাড়ছে। গত কয়েকদিনে দেশি মুরগির মাংসের দাম কেজি প্রতি ৫০-৭০ টাকা বেড়েছে। কিছু দিন আগেও গোটা দেশি মুরগির দাম ছিল ৫৫০ টাকা কিলো। এখন তার দাম বেড়ে হয়েছে ৬০০-৬২০ টাকা প্রতি কিলো। ভোট মরশুমে খাসির মাংসেরও দাম বেড়েছে অনেকটাই। বর্তমানে কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকা বেড়েছে দাম।

    এ বিষয়ে বালুরঘাটের বাসিন্দা সনাতন দাস বলেন, 'আগে সপ্তাহে একদিন করে ব্রয়লার মুরগি কিনতাম। কিন্তু এখন সেটা আর কিনতে পারছি না। যে ভাবে প্রতিনিয়ত মুরগির দাম বাড়ছে, তাতে প্রতি সপ্তাহে মুরগি খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ভোট না পেরোলে পাতে আর মুরগি উঠবে বলে মনে হচ্ছে না।' বালুরঘাটে মুরগি ব্যবসায়ী নোটন মণ্ডল বলেন, 'ভোটের কারণে এখন ব্রয়লার ও দেশি মুরগি দুটোরই চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী যোগান কম। যার ফলে দাম বেড়ে যাচ্ছে।' বালুরঘাট হালদারপাড়ার আর এক মুরগি ব্যবসায়ী অমিত হালদার বলেন, 'প্রতি বছরই এই ভোটের সময় মাংসের চাহিদা বাড়ে। এবারও তার অন্যথা হয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পিকনিকের জন্য মাংস কিনছেন। অনেক পরিমাণে মাংস কেনায় অনেকটাই দাম বেড়ে গিয়েছে। যেভাবে চাহিদা বাড়ছে, তাতে আগামী কয়েক দিনে আরও দাম বাড়বে।'

  • Link to this news (এই সময়)