• SIR-এর ধাক্কায় শুনশান বাজার, চৈত্র সেলে ক্রেতা নেই
    এই সময় | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, মালদা: পুরোনো বঙ্গাব্দ ফুরিয়ে এল। বছর শেষ মানেই চৈত্র সেলের কেনাকাটা। কিন্তু, ইংরেজবাজারে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। কেনাকাটায় ভাটার টান। ভোটের আয়োজন চলছে, অন্য দিকে 'সার'-এর ধাক্কা। এই জোড়া ফলায় 'আক্রান্ত' ব্যবসায়ীরা দোকানে বসে মাছি তাড়াচ্ছেন। সংক্রান্তির আগের দিন পর্যন্ত ব্যবসায় প্রবল মন্দা।

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার)-এর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। মালদা জেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। 'বিচারাধীন'দের মধ্যে থেকে বাদ প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার।ট্রাইবুনালে আবেদন করলেও এই ভোটারদের ভোট দিতে পারবেন কি না, সেটা নিশ্চিত নয়। এই পরিস্থিতিতে মালদা শহর জুড়ে শপিং মল থেকে শুরু করে পোশাক, জুতো ও কসমেটিক্সের দোকানগুলো খাঁ খাঁ করছে। বাজারে দেখা নেই ক্রেতাদের। অথচ অন্য বছরগুলোতে এই সময়ে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন মার্কেট, নেতাজি পুর মার্কেট, কাজি আজহারউদ্দিন মার্কেট এবং ঋষি অরবিন্দ মার্কেটে মানুষের পা ফেলার জায়গা থাকত না। রবীন্দ্র অ্যাভিনিউ, রাজমহল রোড, রথবাড়ি বা স্টেশন রোডের শপিং মলগুলোতেও এ বার একই শুনশান দশা।

    দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা মণিরাম মণ্ডল ও বাসুদেব সাহা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, 'এই সময়ের আগে কথা বলার ফুরসত থাকত না। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসত নতুন পোশাক কিনতে। কিন্তু এখন দোকানের আলো-পাখার বিল ও কর্মচারীদের বেতন জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। কয়েক লক্ষ টাকার লোকসান ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে।'

    কেন এই অবস্থা হল? অনেকেই বলছেন, গ্রামাঞ্চল থেকে যাঁরা শহরে পোশাক কিনতে আসতেন, তাঁদের অনেকের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। কারও পরিবারের সদস্য এ বার ভোট দিতে পারবেন না। ফলে অনেকেরই কেনাকাটায় আগ্রহ নেই। ঝালঝলিয়া এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী নির্মল দাস বলেন, 'মহিলাদের পোশাক তুলেছিলাম অনেক টাকার। কিন্তু ক্রেতা নেই। সবটাই লোকসানে চলছে।' মিষ্টির বাজারেও একই মন্দা। নেতাজি পুর মার্কেটের মিষ্টি ব্যবসায়ী উজ্জ্বল মণ্ডল বলেন, 'নববর্ষে লাড্ডু, রসকদম্ব ও কানসাটের হাজার হাজার প্যাকেটের বায়না আসে। কিন্তু, এ বার গ্রামগঞ্জ থেকে কোনও অর্ডার আসেনি।'

  • Link to this news (এই সময়)