• ওটি-তে চিকিৎসকের ভূমিকায় তৃণমূলের প্রার্থী! উঠছে প্রশ্ন
    এই সময় | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, পুরুলিয়া: রঘুনাথপুরের তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউড়ির বিরুদ্ধে বিজেপির দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত হবে। সোমবার এ কথা জানিয়ে পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কণ্ঠম বলেন, তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ রঘুনাথপুরের রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা পড়েছে। তিনি তদন্ত করে রিপোর্ট দেবেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে।

    প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে পুরুলিয়া-বরাকর রাজ্য সড়কে দুর্ঘটনায় জখম এক ব্যক্তিকে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রঘুনাথপুরের তৃণমূল প্রার্থী হাতে সার্জিক্যাল গ্লাভস পরে রক্তাক্ত সেই ব্যক্তির চিকিৎসা করছেন, এই ছবি (যার সত্যতা যাচাই করেনি 'এই সময়') সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্ন ওঠে, একটি হাসপাতালের মাইনর ওটি-তে ঢুকে তিনি কি এ ভাবে কারও চিকিৎসা করতে পারেন!

    রবিবারই এর তদন্ত দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। এই বিধানসভা আসনের বিজেপির আহ্বায়ক সন্তু তিওয়ারি সোমবার বলেন, 'উনি কি চিকিৎসক? তা হলে কী ভাবে উনি হাসপাতালের ওটি-তে ঢুকে কোনও জখম ব্যক্তির চিকিৎসা করতে পারেন! আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।' বিজেপির রাজ্য নেতা বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, 'হাসপাতালের ওটি-তে ঢুকে এ ভাবে চিকিৎসা করার কোনও অধিকারই নেই ওঁর। তদন্ত করে অবিলম্বে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কমিশনের।' এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মামণি বাউড়িরও প্রশ্ন, 'যিনি পেশায় শিক্ষক, তিনি কী ভাবে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা করতে পারেন!'

    সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার রেশ টেনে হাজারিকে নিয়ে ট্রোলও শুরু হয়ে যায়। সেই ট্রোলে গলায় স্টেথো ঝোলানো হাতজোড় করা হাজারির ছবি দিয়ে তাঁকে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসক বলে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, তিনি 'এমএস, জয় বাংলা মেডিক্যাল কলেজ'। সোমবার এই প্রসঙ্গে হাজারি বলেন, 'ওদের অভিযোগ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যদি আমাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়, আমি হাসিমুখেই তা গ্রহণ করতে রাজি।' নিজের এই কাজের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি বলেন, 'সে দিন রাতে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি, ওই ব্যক্তির থুতনি থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কাছাকাছি কোনও চিকিৎসককে দেখিনি। তখন একটা কথাই মনে হয়েছিল, এই লোকটিকে বাঁচাতে হবে। খালি হাত দিয়ে চেপে ধরা তো উচিত নয়, তাই সার্জিক্যাল গ্লাভস পরে ক্ষতস্থান চেপে ধরেছিলাম।' তৃণমূল প্রার্থী এই সঙ্গেই দাবি করেন, 'আমার ফার্স্ট এড-এর অভিজ্ঞতা আছে। ওরা রাজনৈতিক ভাবে আমাদের সঙ্গে পেরে উঠছে না বলে এ ভাবে এই বিষয়টিকে রাজনীতিতে টেনে আনছে।'

    সূত্রের খবর, ঘটনার জেরে সেই রাতে হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা এক চিকিৎসক-সহ মোট ছ'জনকে শো কজ় করা হয়েছে। তবে তা নিয়ে হাসপাতালের কেউ কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস এ দিন বলেছেন, 'গোটা বিষয়টি কমিশনের আওতায় রয়েছে। এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।'

  • Link to this news (এই সময়)