এই সময়, চুঁচুড়া: ডবল লেয়ার আইডেন্টিফিকেশন এ বার ভোটে নতুন ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের। বুথে প্রবেশের মুখে ভোটারদের পরিচয় খতিয়ে দেখবেন বিএলওরা। তার পরেই বুথের ভিতরে প্রবেশাধিকার পাবেন ভোটাররা। বুথের ভিতরে এবং বাইরে থাকবে ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা। প্রতি বুথে থাকবে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। কমিশনের গাইডলাইন নিয়ে সোমবার হুগলি জেলাশাসক দপ্তরে বৈঠক করেন হুগলি জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি। উপস্থিত ছিলেন, চন্দননগর পুলিশ কমিশনার সুনীলকুমার যাদব, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার সানি রাজ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিক নকুল ভার্মা এবং ভি ভিধুন।
এ দিন আধিকারিকরা জানান, নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠু করতে যা যা প্রয়োজন, সব কিছুই করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সব রাস্তায় নাকা চেকিং করা হচ্ছে। যাতে কোনও রকম বেআইনি অস্ত্র বা নগদ লেনদেন না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। ভোটের দিন অথবা ভোটের সময়ে কোনও হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। ছাপ্পা ভোট করা যাবে না। ওয়েব কাস্টিং ক্যামেরার মাধ্যমে ভিতরে এবং বাইরে নজরদারি চালানো হবে। বুথে মোবাইল নিয়ে ঢুকতে পারবেন না কোনও ভোটার। ভোটার চিহ্নিতকরণ টিম থাকবে বুথের বাইরে। যাকে ডবল লেয়ার আইডেন্টিফিকেশন বলা হচ্ছে। ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথে বিএলওরা থাকবেন। তাঁরাই চিহ্নিত করবেন বৈধ ভোটারদের। স্ট্যাটিক সার্ভিলেন্স টিম কাজ করবে।
এদিন জেলাশাসক জানান, নির্বাচন বিধি লাগু হওয়ার পরে এখনও পর্যন্ত ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বেআইনি মদ ধরা হয়েছে। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার বলেন, 'সিঙ্গুর, চণ্ডীতলা এলাকায় বেআইনি মদ তৈরি করা হয়। গত এক মাসে সেখানে ৮ কোটি টাকার মদ আটক করা হয়েছে। গ্রামীণ পুলিশের এলাকায় ৪১টি নাকা চেকিং পয়েন্ট করা হয়েছে। চন্দননগর পুলিশ কমিশনার জানান, চন্দননগরে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার গাঁজা আটক করা হয়েছে। চুঁচুড়া ফেরিঘাট থেকে ৯৬ হাজার টাকা আটক করা হয়েছে। এলাকার দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা সংশোধনাগারে রয়েছে, তাদের উপরেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৪৬ কোম্পানি বাহিনী এসেছে। ভোটের দিন অন্তত ২০০ কোম্পানি বাহিনী এলাকায় মোতায়েন থাকবে। প্রত্যন্ত গ্রামীণে বেশি করে সেই বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে। হুগলি জেলায় ৫৩৮৭টি বুথ রয়েছে। এ বারেও প্রত্যেক বিধানসভায় একটি করে মডেল বুথ করা হবে। থাকছে একাধিক মহিলা পরিচালিত বুথ। যাঁদের বয়স ৮৫-র ঊর্ধ্বে এবং যাঁরা বিশেষভাবে সক্ষম, তাঁরা আবেদন করেছেন। তাঁদের ভোট বাড়িতে গিয়েই নেওয়া হবে।