পেরু ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল সপরিবার। বিমানে যাতায়াতের টিকিটও কাটা হয়েছিল প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকার। কিন্তু পেরু যাওয়া তো হলোই নয়, উল্টে শেষমেশ আদালতে পৌঁছে গেলেন তামিলনাড়ুর একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চেয়ারম্যান জে এস সতীশকুমার!
ঘুরতে যাওয়ার দিন সময় মতো বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে পৌঁছেও বিমানে উঠতে পারেননি সতীশ এবং তাঁর পরিবার। অভিযোগ, সব নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। এখন বিমানেও ভাড়াও ফেরাচ্ছে না বিমান সংস্থা। শুধু তা-ই নয়, সতীশ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে হেনস্থাও করা হচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে নেদারল্যান্ডের ওই বিমান সংস্থার সিইও এবং সিওও-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে কর্নাটকের আদালত।
বছর দুয়েক আগের ঘটনা। ২০২৪ সালের ১৯ জুন ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল সতীশদের। বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রাথমিক কাজকর্মও সেরে ফেলেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বিমানে ওঠার কিছু ক্ষণ আগেই তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁরা বিমানে যেতে পারবেন না। ভিসা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তাঁদের পেরু যাওয়ার অনুমতি মেলেনি। এ কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন সতীশরা! তাঁদের বক্তব্য ছিল, আমেরিকা, ব্রিটেন বা অস্ট্রেলিয়ার ভিসা থাকলেই পেরু যাওয়া যায়। আলাদা করে পেরুর ভিসার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বিমান সংস্থা তা মানতে চায়নি।
সতীশদের অভিযোগ, শুধু বিমানে উঠতে না দেওয়াতেই বিষয়টি আটকে ছিল না। পরবর্তী কালে তাঁদের নানা ভাবে হেনস্থা করা হয়। সিঙ্গাপুরে আটকানো হয় তাঁর ছেলেকে। পেরু থেকে প্রত্যপর্ণের বিষয়ে তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ দিকে, তাঁরা কখনওই পেরু যাননি। তাঁকেও অস্ট্রেলিয়ায় আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সতীশ। আদালতে তিনি বলেন, ‘কড়া পদক্ষেপ করা উচিত। নয়তো এই ধরনের ঘটনা যে কোনও ব্যক্তির সঙ্গেই ঘটতে পারে।’
অভিযুক্ত বিমান সংস্থার দাবি, নথির ব্যাপারে তারা বড্ডই কড়া। প্রত্যেক যাত্রীকেই সব নথি দেখাতে হবে। তবেই তাঁরা বিমানে উঠতে পারবেন। কিন্তু এই ঘটনায় যে কিছু যাত্রীকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে, তা স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশও করেছে বিমান সংস্থাটি।