আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী সপ্তাহেই রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে রাজ্যের ১৫২ কেন্দ্রে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে রয়েছে সব দল। প্রথম দফার ভোটের আগে হাতে রয়েছে আর মাত্র ৯ দিন। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাত আটটায় দলের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি।
যা জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ দলের সমস্ত প্রার্থী, বর্ষীয়ান নেতৃত্ব ও সাংসদদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসবেন অভিষেক। সম্ভবত প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি সাজিয়ে দিতে পারেন অভিষেক।
এদিকে, মঙ্গলবারও একাধিক জনসভা রয়েছে মমতা ও অভিষেকের। কোচবিহারে রোড শো’র পাশাপাশি ময়নাগুড়িতে জনসভা রয়েছে অভিষেকের। মমতার জনসভা রয়েছে পিংলা, তমলুক ও জগৎবল্লভপুরে।
অন্যদিকে, বাংলায় বিধানসভা ভোটের আগেই আইপ্যাকের অন্যতম পরিচালক ও সহ–প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারির খবর শুনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে আইপ্যাক এর সহ প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলের গ্রেপ্তার একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। যখন পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেই সময়ে এই ধরনের পদক্ষেপ একটি ভয়ঙ্কর বার্তা দিচ্ছে। যদি আপনি বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করেন, তবে আপনার পালাও আসতে পারে। এটা গণতন্ত্র নয়–এটা ভীতি প্রদর্শন!’
অভিষেক আরও লেখেন, ‘অনেকেই তো আছেন যারা দুর্নীতি করেও পার পেয়ে যান। রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেয়ে যান। এটা ঘটনা, যখন গণতন্ত্র রক্ষার জন্য গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের হাতিয়ার বলে মনে হতে শুরু করে, তখন বিশ্বাস ক্ষয় হতে শুরু করে। একদিকে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে, ইডি, এনআইএ, সিবিআই–এর মতো সংস্থাগুলো সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়ে হস্তক্ষেপ করছে। যা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।’
অভিষেকের কথায়, ‘ভারত সবসময় তার গণতন্ত্র নিয়ে গর্ব করেছে। কিন্তু আজ অনেকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেছে আমরা কি এখনও সেই দেশ?’ অভিষেক আরও লেখেন, ‘এটা শুধু একটা গ্রেপ্তারের বিষয় নয়। এটা আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন থাকবে কি না এবং প্রত্যেক নাগরিক, তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস নির্বিশেষে, নির্ভয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।’ অভিষেক আরও লিখেছেন, ‘অমিত শাহ এবং বিজেপিকে বলছি ৪ এবং ৫ মে বাংলায় আসুন। জ্ঞানেশ কুমার এবং আপনাদের নিযুক্ত প্রতিটি সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে আসুন। বাংলাকে ধমকানো যাবে না, চুপ করানো যাবে না এবং মাথা নত করানো যাবে না। এই মা, মাটি আপনাদের জবাব দিয়ে দেবে।’