প্রচুর সংখ্যায় পুলকার, বাস ভোটের কাজে তুলে নিচ্ছে কমিশন! অনলাইন ক্লাসের ভাবনা একাধিক স্কুলে
প্রতিদিন | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গে ভোট (West Bengal Assembly Election)। কলকাতা-সহ হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা জেলায় চলছে জোর ভোটের প্রচার। এদিকে ভোটের আবহে আশঙ্কাও ঘনাচ্ছে। ভোট উপলক্ষ্যে এবার বিপুল সংখ্যায় বাস, পুলকার, স্কুল বাস তুলে নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৭ তারিখ থেকেই সেসব গাড়ি তুলে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ফলে রাস্তাঘাটে বেরিয়ে নাকাল হতে পারেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। পুলকার, স্কুল বাস না থাকলে পড়ুয়ারা কীভাবে স্কুলে আসবে? সেই আশঙ্কায় পড়ুয়াদের কথা ভেবে অনেক ইংরাজি মাধ্যম স্কুলই ভোটের ওই ক’দিন অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবছে বলে খবর। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে এবার বাংলায় ভোট করাতে বধ্যপরিকর কমিশন। সেই আবহে কি তাহলে ভোটের আগে থেকেই মহানগর ও আশপাশে অঘোষিত বনধ দেখা যাবে? সেই চর্চাও চলছে।
ভোট (West Bengal Assembly Election) উপলক্ষ্যে রাজ্যে অনেক আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। কলকাতা-সহ আশপাশের এলাকায় বাহিনী টহল দিচ্ছে। আগামী ২৩ তারিখ রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। উত্তরবঙ্গে ভোট শেষ করার পর বাহিনীর একটা বড় অংশ দক্ষিণবঙ্গে আসবে। অর্থাৎ, মাসের শেষ সপ্তাহে শহরে যানবাহন কার্যত পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলকার, বেসরকারি বাস, স্কুল বাস, বহু ক্যাব ও অন্যান্য গাড়ি নির্বাচন কমিশনের জিম্মায় চলে যাবে বলে খবর। ভোটের কাজে সেসব ব্যবহার করা হবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী ২৬ তারিখ থেকেই শহরে যানবাহন কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলকার, বাস না থাকলে পড়ুয়ারা যাতায়াত করবে কীভাবে? পড়ুয়াদের কথা ভেবেই অনেক স্কুল মাসের শেষ ক’টা দিন অনলাইন ক্লাসের ভাবনাচিন্তা করছে। ভোটের দিন বেশিরভাগ স্কুল বন্ধের ভাবনাও থাকছে। নিউটাউনের দিল্লি পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপাল অম্বিকা মেহরা জানিয়েছেন, ২৭ থেকে ৩০ তারিখ অনলাইনে ক্লাস হবে। ২৯ তারিখ ভোটের দিন ছুটি থাকছে। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের আটটি বাস ২৫ তারিখ থেকে কমিশন নেবে বলে খবর। কীভাবে ক্লাস হবে, ভাবনাচিন্তা চলছে। শ্রী শ্রী অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল গার্গী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্কুলে পোলিং বুথ হবে। সেজন্য ২৮ তারিখ দুপুর থেকেই স্কুল কমিশনের আওতায় চলে যাবে।
বাস সার্ভিসেসের সাধারণ সম্পাদক টিটো সাহা বলেন, ওই তিনদিন শহরের রাস্তায় অমিল হতে পারে। অন্যবারের থেকে অনেক বেশি গাড়ি এবার তুলে নেওয়া হচ্ছে। ফলে মানুষজন রাস্তায় বেরিয়ে কার্যত বাস পাবেন না। পুলকার সংগঠনের তরফে সুদীপ দত্ত জানিয়েছেন, ভোটের ডিউটিতে প্রচুর সংখ্যায় পুলকার নেওয়া হয়েছে। ফলে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে কোনও দায়িত্ব নেওয়া যাবে না। অনলাইন ক্যাব অপারেটর্স গিল্ডের তরফে সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রচুর ক্যাব এবার ভোটের কাজে নেওয়া হবে। ফলে সেসব গাড়িও অমিল থাকবে।