কারও নেশা পোষ্টকার্ড জমিয়ে রাখা, কেউ আবার পছন্দ করেন পেন জমাতে। সেই তালিকায় রয়েছেন দত্তপুকুরের নিবাধুই চড়কপাড়ার অরুণকুমার ঘোষ। তাঁর নেশা দুষ্প্রাপ্য নথি এবং বই সংগ্রহ করা। গত ২৫ বছর ধরে নিজের বাড়িতেই তিনি গড়ে তুলেছেন এক সংগ্রহশালা। নাম দিয়েছেন ‘সমাজ দর্পণ’। পেশায় শিক্ষক অরুণের বাড়িই এখন আস্ত গবেষণা কেন্দ্র। নববর্ষে তাঁর এই অমূল্য খাজানার খোঁজ নিল ‘এই সময় অনলাইন’।
অরুণ ঘোষের সংগ্রহে রয়েছে ৪০০ বছরের পুরোনো তালপাতায় লেখা চণ্ডী স্তোত্র। এই দুষ্প্রাপ্য নথি সংগ্রহ করতে তিনি মাইলের পর মাইল সাইকেল চালিয়েছেন। সব থেকে চমকপ্রদ হলো মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সই করা দানপত্র। এলাকার ন’পাড়া গ্রামের পণ্ডিতদের খুশি হয়ে তিনি যে জমি দান করেছিলেন, তার আসল নথি আজও এখানে সংরক্ষিত।
জমিদাররা কী ভাবে জমিদারি পরিচালনা করতেন বা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে তাঁদের কী চুক্তি হত, তার দলিলও রয়েছে এই সংগ্রহশালায়। এ ছাড়া, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গৃহশিক্ষক সাতকড়ি দত্তর না জানা অনেক তথ্যও পাওয়া যায় অরুণের সংগ্রহশালায়। সাতকড়ি দত্ত দত্তপুকুরেই থাকতেন এবং কবিগুরুর শান্তিনিকেতনের স্কুলেও শিক্ষকতা করতেন।
১৮৪৮ সালে স্থাপিত নিবাধুই উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মনীষীর নাম। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর থেকে শুরু করে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্র সেন এখানে এসেছেন। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ এই স্কুলের জন্য মাসে ৮ টাকা সাহায্য পাঠাতেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ সেই ধারা বহন করে গিয়েছেন। এই সব ইতিহাসের সাক্ষী থাকা ম্যাগাজিন ও বই রয়েছে অরুণের সংগ্রহে।
অরুণ চান তাঁর এই দুষ্প্রাপ্য সংগ্রহ যেন সরকারি ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। তবে বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েও তিনি এখনও পর্যন্ত কোনও আশ্বাস পাননি। নববর্ষে তাঁর বিশে বার্তা, প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের যুগেও বাংলার সংস্কৃতি আর বই পড়ার অভ্যাস ভুলে গেলে চলবে না।