২০২৬ সালের লোকসভা কেন্দ্রগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ‘ডিলিমিটেশন’ (Delimitation) নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সংবাদসংস্থা ANI এক সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার বিকেলে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সূত্রের খবর, ২০৩১ সালের জনগণনার সম্ভাব্য তথ্যের ভিত্তিতে জনসংখ্যা ও জনপ্রতিনিধির অনুপাত ঠিক রাখতেই এই বিপুল পরিমাণ আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন সংসদ ভবনে ৮৮৮ জন সাংসদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। যা এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিচ্ছে।
এই পদক্ষেপে সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিরোধী দলগুলি। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তুলনায় বেশি হওয়ায় সেখানে আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে। ফলে বিরোধীদের, বিশেষ করে আঞ্চলিক দলগুলির আশঙ্কা, আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে গুরুত্ব হারাতে পারে তারা।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৫১ সালে একজন সাংসদ প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতেন। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষে। এই ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনতেই কেন্দ্রের এই মেগা প্ল্যান। তবে বিরোধীরা কেন্দ্রের এই পরিকল্পনার কী প্রতিক্রিয়া জানায়, আগামী কয়েকদিনে সেটাই দেখার।