মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা TCS-এর BPO ইউনিটে যৌন হেনস্থা এবং ধর্মান্তকরণ চক্রের তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মঙ্গলবার, নাসিক পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের শিকড় আন্তর্জাতিক স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তে এই ঘটনার পিছনে মালয়েশিয়ার এক ইসলামি ধর্মগুরুর নাম উঠে আসছে। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক ভাবে এই চক্রের শিকার হিসেবে ৯ জনের নাম উঠে এলেও, এ দিন পুলিশ জানিয়েছে তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই বাড়ছে নির্যাতিতার সংখ্যা।
তদন্তে ‘ইমরান’ নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তার সঙ্গে মালয়েশিয়ার যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ পুলিশের। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে কর্মীদের সঙ্গে এই ইমরানের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো। বিদেশে মোটা বেতনের চাকরি এবং বিলাসবহুল জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মগজধোলাই করত সেই ইমরান।
এর পাশাপাশি, অভিযুক্তদের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই গ্রুপগুলিতে সহকর্মীদের নিয়ে আলোচনা করত তারা। সম্ভাব্য ‘টার্গেট’ স্থির করা হতো সেখানেই। এই চ্যাটগুলি মুছে ফেলা হয়েছে। তবে বর্তমানে ফরেনসিক টুলের সাহায্যে সেই সব চ্যাট উদ্ধার করা হচ্ছে।
SIT সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ১২ জন কর্মীকে নিশানা করার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮ জন মহিলা ও ১ জন পুরুষ-সহ মোট ৯ জন FIR দায়ের করেছেন। শ্লীলতাহানি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ এবং ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মতো গুরুতর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। বাকি তিনজন সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
অন্যদিকে, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল সংস্থার HR ম্যানেজার নিদা খানকে গ্রেপ্তার করেছে নাসিক পুলিশ। কিন্তু এ দিন তারা জানিয়েছে, নিদা খান এখনও পলাতক। আপাতত তাঁকেই এই চক্রের মূল পাণ্ডা বলে মনে করছে পুলিশ। তার নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকিং পদ্ধতিও তদন্ত করে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিগুলি থেকে স্পষ্ট হয়েছে— HR ম্যানেজার নিদা খানের সঙ্গে ছয়জন টিমলিড মিলে, মহিলা সহকর্মীদের গালিগালাজ করা, আপত্তিকর আচরণ, ইসলামিক রীতিনীতি অনুসরণের জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করার মতো অনাচার চালাত।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, তদন্ত যত এগোবে, অভিযুক্ত হিসেবে আরও অনেকের নাম উঠে আসতে পারে। কারণ প্রাথমিক ভাবে এই চক্রের পরিধি তাঁরা যতটা মনে করেছিলেন, বাস্তবে এই চক্র তার থেকে অনেক বড় আকারের হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।