• নাতনির সঙ্গে খেলা, পরিবারকে সময়... প্রার্থী না হয়ে কী ভাবে সময় কাটছে রবীন্দ্রনাথের?
    এই সময় | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • চাঁদ কুমার বড়াল

    কোচবিহারের তৃণমূল মানেই ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের বিধায়ক, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। টানা দুই দশক জেলা তৃণমূল সভাপতি ছিলেন।তিনি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কিন্তু এ বারের বিধানসভা ভোটে তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। তাঁকে এ বার প্রার্থী করেনি দল। তারপর থেকেই কার্যত বাড়িতে বসে গিয়েছেন তিনি, কোচবিহারে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এমনই গুঞ্জন।

    প্রায় ৫৯ বছরের রাজনৈতিক জীবন। ১৯৬৭ সালে প্রথমবার কংগ্রেসের নির্বাচনী এজেন্ট হয়েছিলেন। এখন বাড়িতে বসে কাগজ পড়ে, টিভি দেখে আর নাতনির সঙ্গে খেলে সময় কাটছে রবীন্দ্রনাথের। কয়েক মাস আগেই কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে দলের নির্দেশে সরে যেতে হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। এরপর তিনি তাঁর পুরোনো কেন্দ্র নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে দলের হয়ে কাজ শুরু করেন। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বদলে তৃণমূল প্রার্থী করে শৈলেন বর্মাকে। আর তার পর থেকে নিজেকে বাড়িতে আটকে নিয়েছেন তিনি। দলের হয়ে কোনও প্রচারেও যেতে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। বেশ কিছুদিন আগে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্ট নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল, ‘রাজনৈতিক জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের শিকার হলাম।’

    ১৯৯৮ সালে তৃণমূল প্রতিষ্ঠা হয়। সেদিন থেকে ২০১৯ পর্যন্ত একটানা ২১ বছর জেলা সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতির পদে ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জানাচ্ছেন, ১৯৬৭ সালে তিনি রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। প্রথমে কংগ্রেসের পোলিং এজেন্ট হয়েছিলেন। এরপর ১৯৯৬ সালে নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী হন। সেই বার মাত্র পাঁচ হাজার ভোটে হেরে গিয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থীর কাছে। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার সময় থেকে দলে সদস্য। ২০০১ এবং ২০০৬ সালে নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে ভোট হেরে গিয়েছিলেন। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে জয়ী হন। তবে ২০২১-এ ফের এই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে ভোটে হেরেছেন। এরপর ২০২২ সালে পুরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর হয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন।

    তিনি বলছেন, ‘বুক চিতিয়ে লড়াই করেছি। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। এমনি এমনি তো আর এখন ঘুরে বেড়ানো যায় না। প্রার্থী করেনি দল। সবই ভাগ্য।’ তা হলে এখন তিনি কী করছেন? রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলছেন, ‘এত বছর পরিবারকে সময় দিতে পারিনি। তাই এখন বাড়িতেই সারাদিন কেটে যাচ্ছে। নাতনিকে নিয়ে খেলাধুলা করছি। ব্যবসাও দেখাশোনা করছি।’ তার সঙ্গেই বই লিখছেন তিনি, নাম ‘নাটাবাড়ি টু নবান্ন ভায়া ডাউয়াগুড়ি’। নাটাবাড়ি তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র। আর তাঁর পৈতৃক বাড়ি কোচবিহারের ডাউয়াগুড়ি গ্রামে।

  • Link to this news (এই সময়)