• 'অপশাসনে বামেদেরও ছাড়িয়েছে, সন্দেহখালি নিয়ে TMC-র বিরুদ্ধে প্রচার'; বুথ-কর্মীদের নির্দেশ নমোর
    আজ তক | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • পূর্ব ঘোষণা মতো বিজেপির বুথ কর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতা সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গেরুয়া শিবিরের একাধিক কর্মী এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। নির্বাচনে কোন কোন বিষয়কে প্রচারের হাতিয়ার করা যেতে পারে, কর্মীদের সেই সংক্রান্ত পরামর্শ দেন নমো। 

    এই আলাপচারিতা প্রশ্নোত্তর পর্বে হয়। প্রধানমন্ত্রী বুথ কর্মীদের প্রশ্ন করেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনার পর নিজে উত্তর দেন। এক মহিলা বুথ কর্মীকে জিজ্ঞাসা করেন, 'বাংলায় ভয়ের বাতাবরণ রয়েছে। ধর্ষণ, খুন, দাঙ্গা, রাজনৈতিক হিংসার মতো ঘৃণ্য ঘটনা ঘটে চলেছে নিরন্তর। বাংলায় চরম অরাজকতা চলছে। পশ্চিমবঙ্গে সবথেকে বেশি খারাপ অবস্থা যুবক ও মহিলাদের। তাঁদের জীবন এই সব খারাপ ঘটনার জন্য সবথেকে বেশি প্রভাবিত হয়ে থাকে। সেজন্য তৃণমূলের উপর কি সাধারণ মানুষের রোষ আছে?' 

    উত্তরে সেই মহিলা বলেন, 'আমি তৃণমূলস্তরে কাজ করি। সাধারণ মানুষ এই সরকারের প্রতি বীতশ্রদ্ধ। তাঁরা সবাই পরিবর্তন চান। সরকারের কাজে আম আদমি খুশি নন।' 

    প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে ওই মহিলা কর্মী বলেন, 'আমরা সুরক্ষিত নই। আমরা রাতে বেরোতে পারি না। আমাদের কর্মসংস্থান নেই। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নেই।' 

    এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদী জিজ্ঞাসা করেন, 'বাংলায় কর্মসংস্থান নেই। সেই কারণে অনেককে ভিনরাজ্যে যেতে হয়। সেটা নিয়ে সাধারণ মানুষের কী প্রতিক্রিয়া?' 

    উত্তরে সেই মহিলা বলেন, 'সব পরিবারের সদস্যরা চান, রোজগেরে মানুষ যেন বাড়িতেই থাকে। তাঁরা হতাশ থাকেন এটা ভেবে যে, স্বামী-পুত্র বাইরে থাকেন। তাঁরা এই রাজ্যে কর্মসংস্থান চান। কিন্তু তৃণমূল তো এই ব্যাপারে ব্যর্থ। ওরা কাজ দিতে পারে না। কোনও কাজ নেই রাজ্যে।' 

    উত্তরে PM দাবি করেন, বাংলার পরিস্থিতি যে খারাপ, তিনিও তা বুঝতে পেরেছেন। তাঁর কথায়, 'বামেদের অপশাসন থেকে মুক্তি পেতে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিল বাংলার মানুষ। কিন্তু এই দল বামেদের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মা-বাবা তাঁর মেয়ের সুরক্ষার জন্য চিন্তিত।' 

    এরপর ফের তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেগুলোকে প্রচারের হাতিয়ার করার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, 'আপনাদের এলাকায় যে যে দুর্নীতি বা অপরাধ হয়েছে সেগুলোকে প্রচার করুন। গুন্ডাদের উপর তৃণমূলের আশীর্বাদ আছে। সেজন্য অপরাধ হচ্ছে। এটা ভোটারদের বোঝান। থানাতেও তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বসে থাকে। এভাবে অপরাধের তালিকা তৈরি করুন।' 

    মহিলাদের সঙ্গে মিটিং করার উপর জোর দেন মোদী। তাঁর পরামর্শ, 'যত সম্ভব বেশি বেশি করে মহিলাদের সঙ্গে মিটিং করুন। আরজি কর কাণ্ড, ল কলেজ গণধর্ষণ, সন্দেশখালির ঘটনার ভিডিও বের করুন। সেগুলো সাধারণ মানুষকে দেখান। তবেই তৃণমূলের আসল চেহারাটা সামনে আসবে।' 
  • Link to this news (আজ তক)