• রাহুলের নিশানায় মোদী-মমতা, আরজি কর থেকে বেকার ভাতা একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • জাতীয় রাজনীতিতে অনেক সময় হাতে হাত রেখে লড়াই করতে দেখা গিয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূলকে। কিছু দিন আগেই ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও তৃণমূল যৌথভাবে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব এনেছিল। কিন্তু বঙ্গের ভোট এলেই বদলে যায় সমস্ত সমীকরণ। মঙ্গলবার রায়গঞ্জে নির্বাচনী প্রচারে এসে লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ  রাহুল গান্ধী  সরাসরি আক্রমণ শানালেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এদিনের সভা থেকে তিনি একাধিক ইস্যু তুলে ধরেন।

    আরজি কর-কাণ্ড থেকে শুরু করে বেকার ভাতা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিল্পক্ষেত্রের অবনতির মতো বিষয়গুলিকে সামনে এনে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে উন্নয়নের পরিবর্তে সাধারণ মানুষ নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন এবং সরকারের তরফে তার কার্যকর সমাধান করা হচ্ছে না। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি।

    বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে রাহুল দাবি করেন, বাংলায় বিজেপির উত্থানের পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূল নিজের কাজ ঠিকমতো করলে এবং হিংসার পরিবেশ তৈরি না হলে বাংলায় বিজেপির এতটা বাড়বাড়ন্ত হতো না।‘ তাঁর কটাক্ষ, ‘মোদী যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হন, তা হলে তৃণমূলও দুর্নীতির দৌড়ে পিছিয়ে নেই।’ একইসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি সারদা ও রোজ ভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

    এ দিনের সভায় রাহুল শুরু করেছিলেন আরএসএস-বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে। এ দিন রাহুল গান্ধী বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী আমার চোখে চোখ রাখতে পারেন না। সংসদে বিতর্ক চলছিল। ভারত-আমেরিকার চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। আমায় থামাতে পারেননি বলে, নিজে সংসদ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন।’ এপস্টিন ফাইলের প্রসঙ্গ তুলে মোদীকে নিশানা করেছেন রাহুল। রাহুলের দাবি, এপস্টিন ফাইলে ভারতের অনেক মন্ত্রীর নাম আছে। সেই কারণে ট্রাম্পের হাতে মোদীকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

    ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তাঁর অভিযোগ, এই সমঝোতার ফলে দেশের কৃষক, ছোট শিল্প এবং ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। মোদী ভারতকে বেচে দিয়েছেন। তাঁর মতে, বড় জমির কারণে আমেরিকার কৃষির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারত পিছিয়ে পড়বে এবং দেশের তথ্যভাণ্ডারও বিদেশের হাতে চলে যাচ্ছে।

    ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের ছোট ও বড় কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাজ্য সরকারকেও আক্রমণ করেন। তাঁর মন্তব্য, ‘বাংলায় শিল্প ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর কেন্দ্রের নীতিতে তা সারা দেশে ছড়াবে—ফলে বাংলার ক্ষতি দ্বিগুণ হবে।‘ পাশাপাশি তিনি বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব এবং যুবসমাজের সমস্যা নিয়েও তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান।

    তিনি বলেন, ‘তৃণমূল ২০২১ সালে বলেছিল পাঁচ লক্ষ লোককে রোজগার দেবে। কত জনকে দিয়েছেন? একদিকে বলেছে চাকরি দেবে, অন্যদিকে ৮৪ লক্ষ যুবক বেকারত্ব ভাতার জন্য আবেদন করেছেন।’ কর্মসংস্থান ও শিল্প ইস্যুতে বাম জমানাকেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘বাংলা আগে শিল্পের হাব ছিল। কিন্তু প্রথমে বামফ্রন্ট সরকার আর পরে মমতাজি বাংলার শিল্পকে নষ্ট করেছে।‘

    রায়গঞ্জে কংগ্রেস প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্তর সমর্থনে প্রচারে এসে রাহুল গান্ধী প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির প্রসঙ্গ টেনে আবেগঘন মন্তব্যও করেন। তাঁর দাবি, তিনি বেঁচে থাকলে বাংলায় কংগ্রেসের সরকার গঠিত হতে পারত।রায়গঞ্জ আসনে ২০১৬ সালেও জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস। ২০২১ সালে এই আসন যায় বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণীর দখলে। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। রায়গঞ্জ আসন ফের দখলে আনতে এ বার কোমর বাঁধছে কংগ্রেস।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)