লোকসভায় এবার ৮৫০ সাংসদ! মহিলা সংরক্ষণের ‘আড়ালে’ বিল পেশের পথে কেন্দ্র, শঙ্কায় বিরোধীরা
প্রতিদিন | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করাতে বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে মোদি সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে এই অধিবেশন। এই অধিবেশনেই আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে প্রাথমিক আলোচনাও হতে চলেছে। বর্তমানে লোকসভায় রয়েছে ৫৪৩টি আসন। সেটা বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব দিল মোদি সরকার। সূত্রের খবর, আসন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে খসড়া বিল। সাংসদদের কাছে সেই খসড়া বিল পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে। যদিও এই পদক্ষেপে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিরোধীরা।
২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনার অপেক্ষা করছে না। মোদি সরকার চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। সেই পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষিত করা হবে।
২০২৯ লোকসভা নির্বাচনের আগেই আসন পুনর্বিন্যাস সেরে ফেলতে চাইছে কেন্দ্র, যেন ওই ভোট থেকেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা যায়। সেকারণেই চার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীনই বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে মোদি সরকার। কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী আগেই দাবি করেছিলেন, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সংশোধনী পাশের আড়ালে আসন পুনর্বিন্যাসের ছক কষছে কেন্দ্র। সেই ‘আশঙ্কা’ই সত্যি হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, আসন পুনর্বিন্যাস করে লোকসভার আসন ৮৫০ পর্যন্ত করতে চাইছে কেন্দ্র। এর মধ্যে ৩৫টি আসন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে, বাকি ৮১৫টি আসন থাকবে রাজ্য থেকে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট বিরোধী দলগুলি। তাদের আশঙ্কা, ক্ষমতাকে ব্যবহার করে নিজেদের সুবিধামতো আসন পুনর্বিন্যাস করে নেবে বিজেপি। ২০১১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে যদি নতুন আসন বণ্টন করা হয় তাহলে দক্ষিণ ভারত বা পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলির তুলনায় গোবলয়ের রাজ্যগুলিতে আসন সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ার কথা।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রের তরফ থেকে খসড়া বিল পাওয়ার পরেই বৈঠকে বসতে চলেছে বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বাসভবনে বিরোধী নেতারা একজোট হতে পারেন। ভোটের মধ্যে তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী নেতারাও হাজির থাকতে পারেন এই বৈঠকে। বিরোধীদের আশঙ্কা, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনে আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে কোনও প্রস্তাব পেশ হবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে সেই প্রস্তাব পাশ করিয়ে নেওয়ার ছক কষছে মোদি সরকার।