ইরানকে পঙ্গু করতে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করেছে আমেরিকা। ফলে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ঘোর সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মোদি জানিয়েছেন, ভারতবাসী তাঁকে ভালোবাসে।
দীর্ঘ একমাসেরও বেশি রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধের পর সাময়িক সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান-আমেরিকা। রফাসূত্র বের করতে সম্প্রতি ইসলামাবাদে দু’পক্ষ আলোচনায় বসে। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। তারপরই হরমুজ অবরুদ্ধ করতে তোড়জোড় শুরু করে দেয় আমেরিকা। ফলে হরমুজের আকাশে ঘনাতে থাকে কালো মেঘ। এই পরিস্থিতিতে মোদির সঙ্গে কথা বললেন ট্রাম্প। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূত সার্জিও গোর মোদি-ট্রাম্পের ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “কিছুক্ষণ আগেই দুই নেতা প্রায় ৪০মিনিট ফোনে কথা বলেছেন। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মোদিকে নিয়মিতভাবে সব খবর জানিয়ে গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধ ছাড়াও ভারত-আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনা হয়েছে।” সূত্রের খবর, গোটা বিশ্বের স্বার্থে হরমুজ মুক্ত করা যে আশু প্রয়োজন, সেই বিষয়ে দু’পক্ষই একমত হয়েছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘বন্ধু ট্রাম্পের সঙ্গে একটু আগেই আমার কথা হল। দ্বিপাক্ষিক সহযোগীতা এবং দু’দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়াও পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালীকে উন্মুক্ত এবং সুরক্ষিত রাখার বিষয়টির উপরও জোর দিয়েছি।’
উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ শেষবার দুই রাষ্ট্রনেতার কথা হয়েছে। সেই সময় মোদি মোদি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, ভারত যত দ্রুত সম্ভব মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা হ্রাস এবং শান্তি পুনরুদ্ধারের পক্ষে। একইসঙ্গে হরমুজ নিয়েও কথা হয়েছিল দু’জনের। কিন্তু তারপর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। হরমুজ সমস্যার জেরে ভারতেও সৃষ্টি হয়েছে জ্বালানি সংকট। এই পরিস্থিতি মোদি-ট্রাম্পের ফোনালাপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।