বাংলাকে অখণ্ড রেখে গোর্খা সমস্যার সাংবিধানিক সমাধানের আশ্বাস, উত্তরের ভোটবাজারে কোন ছক শাহের?
প্রতিদিন | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
পাছে রাজ্যভাগের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে, এমন ভয়েই কি এবার উত্তরের ভোট প্রচারে গোর্খাল্যান্ড ইস্যু কৌশলে এড়িয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)! নাকি পাহাড়-সমতলের অন্তত পাঁচটি বিধানসভা আসন টার্গেট করেই গোর্খা ইস্যু জিইয়ে রাখলেন! পাশাপাশি এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করলেন! বুধবার দার্জিলিংয়ে নির্বাচনী সভার ২৪ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের সভায় শাহের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আরও অনেক প্রশ্ন উঠেছে। গঙ্গারামপুরের সভায় তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে অখণ্ড রেখেই গোর্খা সমস্যার স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সাংবিধানিক সমাধান করবে কেন্দ্র।”
প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি সত্যি সুপরিকল্পিত উন্নয়নের পরিকাঠামো দিয়ে ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা আরও বাড়াতে শিলিগুড়িকে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক রিজিওন’ অর্থাৎ ‘এনএসআর’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবছে দিল্লি! এনসিআর-এর অধীন দিল্লি যেমন রাজধানী এবং সংলগ্ন এলাকার মধ্যে সুসংহত নগরোন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং অর্থনীতির সেতুবন্ধন করেছে একইভাবে শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে পাহাড় ও সমতলকে মিলিয়ে এই স্ট্র্যাটেজিক রিজিওন গঠন করা হতে পারে।
ইতিমধ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক রিজিওন প্ল্যানিং বোর্ড’ গঠন করার প্রস্তাব উঠেছে। ওই বোর্ডে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, সড়ক ও পরিবহণ এবং অর্থ মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি থাকবেন রাজ্য সরকারের শীর্ষ আমলা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারা। ওয়াকিবহাল মহলের মত, এই যৌথ ব্যবস্থার সুবিধা হবে, এটি রাজ্যের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো অর্থাৎ রাজ্যের সীমানায় আঘাত করবে না। উল্টে উন্নয়ন ও সুরক্ষার প্রয়োজনে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দেরিতে হলেও গেরুয়া শিবিরের ‘বোধোদয়’ হয়েছে পৃথক গোর্খাল্যান্ড অথবা কামতাপুর রাজ্য গঠনের দাবি মেনে নিলে পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি করতে হবে না! আবার গোর্খা ও কামতাপুরি ভোটও দখলে রাখা জরুরি। তাই কি পশ্চিমবঙ্গকে অখণ্ড রেখেই গোর্খা সমস্যার স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সাংবিধানিক সমাধানের পথ অছিলায় ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক রিজিওন’ অর্থাৎ ‘এনএসআর’ গড়ে তোলার আভাস দিলেন শাহ! কার্যত, সুবাস ঘিসিংয়ের সময় থেকে পাহাড়ের রাজনীতি গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং থেকে ভারতীয় গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের সুপ্রিমো রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ওই আবেগ এবার নির্বাচনেও ব্যবহারের মরিয়া চেষ্টা করছেন। প্রকাশ্যে না বললেও এই ইস্যু একদম ঝেড়ে ফেলতে পারছেন না ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার অনীত থাপাও।
এর আগের যে কোনও নির্বাচনে বিজেপি খোলামেলা গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে বক্তব্য রাখলেও এবার যথেষ্ট সংযত। কারণ, এর আগে বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা ভাগের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। দার্জিলিং সফরে যাওয়ার প্রাককালে শাহ সেই সুযোগ রাখলেন না! তিনি সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে সাফ জানিয়ে দিলেন, বাংলাকে না ভেঙে গোর্খা সমস্যার একটি সাংবিধানিক সমাধান করা হবে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র দায়বদ্ধ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করেছেন শাহ। একদিকে পাহাড়ের ভাবাবেগ রক্ষা। অন্যদিকে সমতলের মানুষের মন জয়। দুটোই রইল। ওই ফাঁকে কৌশলে ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজিওন’ অর্থাৎ ‘এনএসআর’ নিয়েও আভাস দেওয়ার চেষ্টা করলেন। এদিন চারটি বড় শহর গড়ে তোলার কথা বলেছেন শাহ। অর্থনীতি, পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। মনে রাখতে হবে ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজিওন’ অর্থাৎ ‘এনএসআর’ প্রস্তবে ওই কথাগুলো রয়েছে।