সত্তরের দশকের শেষ। ছাত্র পরিষদের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। সমীর চক্রবর্তী (Samir Chakraborty) তখন কংগ্রেসে। ২০১১ সালে বঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন। তারপর তৃণমূলে যোগদান। ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূল প্রার্থী হন। বাঁকুড়ার তালড্যাংরা থেকে বিধায়ক। ‘২১ সাল পর্যন্ত বিধায়ক। তারপর ভোটে দাঁড়াননি তিনি। দলের হয়ে প্রচার করেন। স্বেচ্ছায় সেই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ছাব্বিশের নির্বাচনী যুদ্ধে ফের প্রার্থী সমীর। এবার তাঁর আসন পাণ্ডুয়া। ২০১৬ সালের অন্যতম ধনী প্রার্থীর আজ সম্পত্তি কত? তাঁর স্ত্রীরও বা সম্পত্তি কত? কী বলছে সকলের পরিচিত ‘বুয়া’র হলফনামা?
নির্বাচনী হলফনামায় বিজ্ঞানে স্নাতক সমীর জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় ৩ কোটি ৮৮ লক্ষ ৩০ হাজার ৩০ টাকা। ‘বুয়া’র হাতে নগদ রয়েছে ১৩ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা। ব্যাঙ্ক ও বিমায় বিনিয়োগ ৪০ কোটি ০৭ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। একটি গাড়ি রয়েছে সমীরের নামে। কিয়া সেল্টাস চালান তিনি। দাম ১৯ লক্ষ ৯ হাজার টাকা। ৭৫০ গ্রাম সোনা রয়েছে। মোট দাম ৬৮ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা। মোট ৪১ কোটি ০৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে সমীরের। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে সমীরের নামে রয়েছে ৪টি বাড়ি। একটি রয়েছে দুবাইয়ে, অন্য একটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। বাড়িগুলির বাজারদর মোট ২৬ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা।
পিছিয়ে নেই সমীরের স্ত্রী কৃষ্ণা চক্রবর্তীও। তাঁর বার্ষিক আয় ৩৭ কোটি ৫৪ লক্ষ ১৭০ টাকা। তাঁর হাতে নগদ ১০ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা। ব্যাঙ্ক ও বিমায় বিনিয়োগ ৪ কোটি ৯৭ লক্ষ ৪৯ হাজার। কৃষ্ণার সোনা রয়েছে ৬২০ গ্রাম। দাম ৫৬ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা। মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫ কোটি ৬৪ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা। সমীরের স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি মধ্যে রয়েছে ১টি অকৃষিজ জমি। সেটির বাজারদর ২ কোটি ৭০ লক্ষ। তাঁর নামে বাড়ি রয়েছে একটি। বাজারদর ৩০ লক্ষ টাকা।
সব মেলালে সমীর আজও তৃণমূলের ‘ধনীতম’ প্রার্থী। দ্বিতীয় দফায় সমীরের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। কলকাতা ছেড়ে তিনি পাণ্ডুয়ার মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছে। বর্ষীয়ান এই রাজনেতা বিধানসভায় যাবেন কিনা, তা সময় বলবে। তবে তাঁর সম্পত্তি যে কারও নজর কাড়বে!