• লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে টেক্কা দিতে রাহুলের বাজি ২০০০ টাকা, বিঁধলেন মোদী-মমতাকে
    এই সময় | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • বিধানসভা ভোটের আবহে বাংলার মাটি থেকে বিজেপি ও তৃণমূলকে একযোগে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। আম্বেদকর জয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘দেশের সংবিধান এবং গণতন্ত্র আজ বিপন্ন। আর সেই সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেস–ই একমাত্র বিকল্প।’

    মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) সামশেরগঞ্জে কৃষক বাজার ময়দানে ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, সুতি, জঙ্গিপুর, রঘুনাথগঞ্জ, লালগোলা ও সাগরদিঘির কংগ্রেস (Congress) প্রার্থীদের সমর্থনে এ দিন সভা করেন কংগ্রেস সাংসদ। সামশেরগঞ্জের সভা থেকে রাহুল বলেন, ‘আম্বেদকর, গান্ধী, নেহরু এবং প্যাটেল যে সংবিধান আমাদের উপহার দিয়েছেন, তার মূল মন্ত্র হলো সাম্য। কিন্তু বিজেপি–আরএসএস সেই সংবিধানের উপরে প্রতিনিয়ত আক্রমণ চালাচ্ছে।’ তাঁর অভিযোগ, ‘নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের উপরে বড়সড় আঘাত।’

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) নজিরবিহীন আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সমস্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) হাতে। তিনি বলেন, ​‘মোদীজি আমার সঙ্গে চোখে চোখ মেলাতে পারেন না। কারণ, কংগ্রেসের কাছে তাঁর সব আসল তথ্য রয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, বিমানবন্দর থেকে সোলার পাওয়ার—সব কিছুই আদানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আসলে দেশকে কার্যত বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।’ ​তৃণমূল–বিজেপির ‘গোপন আঁতাত’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূলের (Trinamool Congress) সমালোচনা করেন।

    রাহুলের দাবি, ‘তৃণমূল বাংলায় বিজেপির জন্য রাস্তা প্রশস্ত করে দিচ্ছে। তৃণমূলের সিন্ডিকেটরাজ আর দুর্নীতি বাংলাকে শেষ করে দিচ্ছে। বেকারত্ব বাড়ছে আর সাধারণ মানুষকে কাজের জন্য তৃণমূলের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প যখন বাংলার রাজনীতির অন্যতম হাতিয়ার। তখন রাহুল গান্ধী এ দিন তার পাল্টা ঘোষণা করে প্রতিশ্রুতি দেন, ‘প্রত্যেক মহিলার অ্যাকাউন্টে মাসে ২০০০ টাকা সরাসরি দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা প্রদান করা হবে। বিনামূল্যে উন্নত শিক্ষা এবং শূন্য সরকারি পদগুলি প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই পূরণ করা হবে। প্রতিটি জেলায় এআই সেন্টার খোলা হবে।’

    কংগ্রেস সাংসদ সামশেরগঞ্জের মানুষকে আহ্বান জানান, বাংলায় ‘ভাইচারা’ বা ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখতে এবং বিজেপি-তৃণমূলের অশুভ আঁতাত ভাঙতে কংগ্রেস প্রার্থীদের জয়ী করতে। তাঁর কথায়, ‘বিজেপিকে কেন্দ্র থেকে সরানোর ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসেরই আছে, তৃণমূলের নয়।’ তাই কংগ্রেস প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিধানসভায় পাঠানোর জন্য আহ্বান জানান।

  • Link to this news (এই সময়)