পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীকে (Nirav Modi) দেশে ফেরানো (Extradition) এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ইতিমধ্যেই CBI-এর একটি বিশেষ দল লন্ডনে (London) পৌঁছে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই তাঁকে ফিরিয়ে আনা হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে খবর। প্রত্যার্পণ আটকাতে ব্রিটেনের আদালতে মামলা করেছিলেন নীরব মোদী। কিন্তু সেখানেও বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। ফলে পালানোর আর কোনও পথ নেই তাঁর।
কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আর কোনও আইনি বাধা নেই। সেই জন্যই CBI-এর বিশেষ টিমকে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রত্যার্পণের কাগজপত্র এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করছেন তাঁরা। ফলে যে কোনও মুহূর্তে নীরব মোদীকে নিয়ে দেশে ফেরার বিমান ধরতে পারেন CBI-এর ওই বিশেষ টিম। উল্লেখ্য, ভারতে প্রত্যপর্ণ করলে তাঁর মক্কেল নির্যাতনের শিকার হতে পারেন বলে দাবি করেছিলেন নীরবের আইনজীবী। কিন্তু সেই আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে ব্রিটিশের আদালত।
এর আগে ‘দৃষ্টিশক্তির গুরুতর সমস্যা’ এবং ‘মানসিক অবসাদে’র যুক্তি দিয়ে ভারতে প্রত্যর্পণ খারিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন নীরব মোদী। পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী সঞ্জয় ভান্ডারির উদাহরণ টেনেছিলেন তিনি। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাতে নির্যাতনের সম্ভাবনার কারণে তাঁর প্রত্যার্পণ বাতিল করা হয়েছিল। সেই একই যুক্তিতে যেন নীরবের প্রত্যার্পণও বাতিল করা হয়। কিন্তু তাঁর সেই আবেদন গ্রাহ্য করেনি লন্ডন হাইকোর্ট।
ভারতে আনার পরে নীরব মোদীকে মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলের ১২ নম্বর ব্যারাকে রাখা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে তাঁকে সমস্ত প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে ব্রিটিশ আদালতকে আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। CBI সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতে আনার পরেই তাঁকে বিশেষ আদালতে হাজির করানো হবে। এর পরে শুরু হবে পিএনবি কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত অর্থ পাচার এবং জালিয়াতি মামলার বিচার।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের প্রায় ৬,৪৯৮ কোটি টাকার ঋণখেলাপের অভিযোগ ওঠে নীরব মোদীর বিরুদ্ধে। কিন্তু তদন্ত শুরু হওয়ার পরেই দেশ ছেড়ে পালান গুজরাটের এই হিরে ব্যবসায়ী। পরবর্তী সময়ে ‘ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া’-র ঋণ প্রতারণা মামলাতেও অভিযুক্ত করা হয় তাঁকে। ইডি তাঁকে পলাতক ঘোষণা করে। ২০১৯ সালে ব্রিটেনে গ্রেপ্তার করা হয় নীরব মোদীকে। তার পর থেকে ওয়েস্টমিনিস্টার এলাকার একটি জেলে বন্দি রয়েছেন তিনি।