শ্রমিক বিক্ষোভের (Workers Protest) জেরে উত্তাল নয়ডা (Noida)। ভাঙচুর, অবরোধ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে জেলাশাসক মেধা রূপমকে (Noida DM Medha Rupam)। কাকতালীয় ভাবে মেধা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar) কন্যা। সেই যোগসূত্র টেনেই মঙ্গলবার মেধা এবং জ্ঞানেশ কুমারকে একযোগে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mohua Moitra)। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘বাবা কি বললেন?’
দিন দশেক পরেই প্রথম দফার ভোট হবে বাংলায়। তার আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক রদবদল চলছে। নিজের পোস্টে সেই কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন মহুয়া। তিনি লিখেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তৃণমূলকে উপদেশ দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, নিজের সন্তানদেরই ন্যূনতম বিষয়গুলো শেখাতে পারেননি।’
বিক্ষোভের জেরে নয়ডার পরিস্থিতি স্থানীয় প্রশাসনের হাতের বাইরে চলে যায় বলেও কটাক্ষ করেছেন মহুয়া। শেষ পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে আসরে নামতে হয়। এই নিয়ে মহুয়ার বক্তব্য, ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে, যিনি এখন নয়ডার জেলাশাসক, বৈধ বিক্ষোভ কী ভাবে সামলাতে হয়, সেই ব্যাপারে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। লজ্জাজনক।’
ধিকিধিকি আগুন গত কয়েক দিন ধরেই জ্বলছিল। সোমবার একেবারে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন নয়ডার শ্রমিকরা। শুরু হয়েছিল পথ অবরোধ। অবাধে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন, বাদ যায়নি কিছুই। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়েন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। বন্ধ হয়ে যায় দিল্লির সঙ্গে নয়ডার সংযোগকারী রাস্তা। এর পরেই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দেন যোগী আদিত্যনাথ। রাতেই শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে বিক্ষোভ শান্ত হয়। কিন্তু ততক্ষণে মেধাকে কাঠগড়ায় তুলতে শুরু করে দিয়েছেন বিরোধীরা।
তবে এ বারই প্রথম নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজের মৃত্যুতেও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে জেলাশাসক মেধা রূপমের দিকেই আঙুল উঠেছিল। শপিং মলের বেসমেন্ট তৈরির জন্য নয়ডার সেক্টর ১৫০-র কাছে খোঁড়া ২০ ফুটের গর্তে গাড়ি নিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন যুবরাজ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরেও গর্ত বোজানোর জন্য কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল সেই বারও।