প্রার্থী হওয়ার পরেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর দলের কাউকে মারা হলে ‘যোগ্য জবাব’ দেবেন তিনি। আর এ বার পুলিশকেই ‘আধমরা’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। মঙ্গলবার ময়ূরেশ্বর বিধানসভার তলোয়ার গ্রামের প্রচারে গিয়েছিলেন বিজেপির প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডল। সেখানেই প্রকাশ্যে এক পুলিশ আধকারিককে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি বলে বলে অভিযোগ।
বীরভূম (Birbhum) জেলারই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলের মতো একাধিক বিতর্ক আছে দুধকুমার মণ্ডলকে নিয়ে।
এক সময়ে বীরভূম জেলায় বিজেপি (BJP) সভাপতি ছিলেন দুধকুমার মণ্ডল। কিন্তু একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। দল থেকে সাসপেন্ডও হতে হয়েছিল তাঁকে । তবে পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা বা লোকসভা প্রতিটি নির্বাচনেই তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছে বিজেপি। সেই দুধকুমার মণ্ডলকেই বীরভূমের ময়ূরেশ্বর আসনে প্রার্থী করেছে বিজেপি।
যখন বীরভূমে বিজেপির সংগঠন সেই অর্থে ছিল না সেই সময়েও অনুব্রত মণ্ডলের চোখে চোখ রেখে কথা বলেছেন তিনি। আর, এ বার অনুব্রতর স্টাইলেই পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ময়ূরেশ্বর বিধানসভার তলোয়ার গ্রামে প্রচারে গিয়েছিলেন দুধকুমার মণ্ডল। সেখানেই এক বিজেপির কর্মীকে হুমকি দেওয়ার কথা শুনতে পান তিনি । তাতেই রেগে গিয়ে পুলিশকে হুমকি দিয়েছেন দুধকুমার বলে অভিযোগ।
সেখানেই, সবার সামনে আঙুল উঁচিয়ে এক পুলিশ আধিকারিককে দুধকুমার বলেন, ‘আমি কাউকে বিরক্ত করব না। তবে আমার কর্মীদের বা আমাকে যদি কেউ বিরক্ত করে আমি তাকে ছেড়ে কথা বলব না ঘর থেকে বের করে মেরে আধমরা করে ছেড়ে যাব ।’
তাঁর দাবি, অকারণে হেনস্থা করা হচ্ছে বিজেপি কর্মীদের। এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করছে না পুলিশ।
তবে তৃণমূলের (Trinamool Congress) দাবি, এ বারেও ভোটে নিশ্চিন্তে হারবেন দুধকুমার মণ্ডল। এই কথা বুঝতে পেরেই এই রকম আচরণ করছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে বোলপুরের শিবপুরের একটি ঘটনা নিয়ে সিপিএম এবং তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনা নিয়ে তৎকালীন ডিএসপি কাশীনাথ মিস্ত্রিকে ডেকে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) বলে অভিযোগ উঠেছিল।