• বিজেপির ‘জুমলা’ ফাঁস, তমলুক-জগৎবল্লভপুরে তোপ দাগলেন মমতা
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থেকে হাওড়ার জগৎবল্লভপুর— একাধিক জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ভোট, চাকরি, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে একের পর এক অভিযোগ।

    কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘বুথে এজেন্ট দেওয়ার লোক নেই, তাই এজেন্সিকে দিয়ে ভোট করাতে চাইছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোটার তাড়িয়ে ছাপ্পা দেবে— এটাই ওদের পরিকল্পনা।’ পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, গণনার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, যন্ত্র বিকল এবং ধীর গতির গণনার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিহারে ভোটের আগে ৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল, পরে বুলডোজ়ার চালিয়ে সেই টাকা ফেরত চাইছে। এখানেও একই জুমলা শুরু হয়েছে। বলছে, ক্ষমতায় এলে মাসে ৩ হাজার টাকা দেবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কাউকে এক পয়সাও দেয়নি।’ তাঁর দাবি, ভোট এলেই কালো টাকার খেলা শুরু করে বিজেপি।

    চাকরির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা চাকরি দিতে গেলেই সিপিএম আর বিজেপির কয়েকজন কোর্টে গিয়ে মামলা করে। আগে যারা সিপিএম করত, এখন তারাই বিজেপি করছে।’ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ‘বটবৃক্ষ ছায়া দেয়, আর এরা বিষবৃক্ষ— সর্বক্ষণ বিষ ছড়াচ্ছে।’

    ভোটার তালিকা এবং বহিরাগত ইস্যুতে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার নাম কেটে বহিরাগতরা ভোট দিতে এলে ছেড়ে দেবেন না। ভাল করে প্রতিবাদ করবেন।’ একই সঙ্গে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন শিক্ষা দিন, যাতে আর কখনও বাংলাকে চ্যালেঞ্জ করতে না পারে।’ এদিন জগৎবল্লভপুরের সভা থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, ‘তৃণমূলের একজনকে গ্রেপ্তার করলে হাজার জন বেরোবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দাঙ্গা করি না, খুন করি না। ভালবাসাই আমাদের শক্তি।’

    ভোটারদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে টাকা দিলে সাবধান থাকবেন। ভোট দিলে আপনার অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।’ পাশাপাশি নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে বলেন, ‘যদি ২০২৪ সালের তালিকা থেকেই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়, তাহলে ৯০ লক্ষ মানুষের নাম কেন বাদ গেল? এর জবাব দিতে হবে।’

    রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘মাত্র ৯ মাসে ৯টি সেতু তৈরি করেছি। মাতঙ্গিনী হাজরা মহিলা কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ, সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো— সবই হয়েছে এই জেলায়।’ তিনি তমলুককে ‘স্বাধীনতার মাটি’ বলেও উল্লেখ করেন এবং ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

    এদিন সবং থেকে প্রচার শুরু করে তমলুক ও জগৎবল্লভপুরে সভা করে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলই ফের ক্ষমতায় ফিরবে। তাঁর কথায়, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, বাংলা আবার তৃণমূলই দখল করবে।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)