• স্ক্রিনশট প্রশ্নে বিদ্ধ কমিশন, আক্রমণে জোড়াফুল, জবাব পদ্মের
    এই সময় | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: বঙ্গে ভোটের আবহে নতুন বিতর্ক। সেই বিতর্কের কেন্দ্রে দু’টি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশট এবং আরও নির্দিষ্ট ভাবে বলতে গেলে মেসেজে লেখা ‘অভিষেক’ ও ‘তাঁর স্ত্রী’ শব্দগুলি! মঙ্গলবার সকালে এই স্ক্রিনশট শেয়ার করে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভোটের আগে টাকা পাচার রোখার অছিলায় তাঁদের শীর্ষ নেতা–মন্ত্রীদেরও ইচ্ছাকৃত ভাবে হেনস্থার চেষ্টা চলছে এবং সেই ষড়যন্ত্রের মূলে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই স্ক্রিনশটগুলির সত্যতা ‘এই সময়’ যাচাই করেনি।

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল এ দিন সকালে বলেন, ‘ভোটের সময়ে হেলিকপ্টার, গাড়ি এ সব চেকিং হয়। এর নজিরও আছে। তবে এই রকম কোনও নির্দেশ (স্ক্রিনশটে যা বলা হয়েছে) কেউ দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।’ যদিও তৃণমূলের অভিযোগ, স্ক্রিনশটে লেখা বার্তা কমিশনের পুলিশ অবজ়ার্ভারদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে গ্রাউন্ড লেভেলে ডিউটিরত কমিশনের আধিকারিকদের কাদের তল্লাশি করতে হবে, কী ভাবে করতে হবে— তা নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    স্ক্রিনশটে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘উদ্বেগের বিষয়টি হলো, অর্থের আদান-প্রদানে অভিষেকের স্ত্রী জড়িত থাকতে পারেন। তাই আজ এই সমস্ত তল্লাশি অভিযানেই এফএসটি-কে (ফ্লাইং সার্ভেল্যান্স টিম) যুক্ত করুন। তাদের যথাযথ ভাবে নির্দেশ দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে বাদ রেখে, নিরাপত্তা পাওয়া ব্যক্তি, তৃণমূলের সমস্ত নেতা-মন্ত্রী এবং অভিষেক ও তাঁর স্ত্রীকেও তল্লাশির আওতায় আনতে হবে।’

    আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘এফএসটি-দের আজ অতিরিক্ত দুই সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং একজন এসি দেওয়া হতে পারে। এই বিষয়টির তদারকি করবেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ পর্যবেক্ষক। এক্সপেন্ডিচার পর্যবেক্ষকেরা এই কাজে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের সাহায্য করবেন। এই তল্লাশিতে তাঁদের একটি দল হিসেবেই কাজ করতে হবে। এই সমস্ত তল্লাশি কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি করা হবে। আমরাও সিইও-র কন্ট্রোল রুম থেকে এই তল্লাশিতে নজর রাখব। ভবিষ্যতে এই ধরনের তল্লাশি অভিযান ঘনঘন হবে।’

    এর ব্যাখ্যা ওই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে নেই। তবে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নির্দেশে সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যের শীর্ষ নেতা–মন্ত্রীদের টার্গেট করতে চাইছে বলে অভিযোগ জোড়াফুল নেতৃত্বের। এ দিন দুপুরে তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ এখন কসাইদের বধ্যভূমি। এই কসাইরা আসছে গুজরাট কিংবা উত্তরপ্রদেশ থেকে। গ্রেপ্তার করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারের নাম করে এই ভাবে মেসেজ করছে! কোনও ওপেন ফোরামে এই মেসেজ করা যায়? কতটা মরিয়া, বেপরোয়া এরা— এই মেসেজ থেকে ফুটে বেরোচ্ছে। এর নিন্দা করছি।’

    এ দিন সামনে আসা স্ক্রিনশটে আরও বলা হয়েছে, ‘গতকাল মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে তহবিল বণ্টন শুরু হয়েছে সমস্ত আউটরিচ লোকেশনে। পূর্বঘোষিত কোনও রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা না হলেও নদিয়া, বসিরহাট, বনগাঁ, ক্যানিং, তেহট্ট, রানাঘাট, কাকদ্বীপ, মগরাহাট–২, ডায়মন্ড হারবার–১ ও ২ ব্লক এবং সেই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের ফলতা ব্লক এবং লালবাগ মহকুমায় রুটিন ক্যাম্প চালু রয়েছে। এই সমস্ত ক্যাম্পে অবশ্যই তল্লাশি চালাতে হবে।’ আরও লেখা হয়েছে, ‘জানা গিয়েছে, আজ থেকে দিনের বেলা ঝাড়খণ্ড থেকে পুরুলিয়ার মানবাজার ও বান্দোয়ান হয়ে, বিহারের পূর্ণিয়া থেকে এবং নেপাল থেকে ইসলামপুর হয়ে প্রচুর পরিমাণে নগদ টাকা (ক্যাশ) ঢুকবে।’ অবশ্য এই মেসেজ কবে পাঠানো, সেটা স্ক্রিনশট থেকে স্পষ্ট নয়।

    এই প্রসঙ্গে ব্রাত্যর আক্রমণ, ‘এই মেসেজে কোন পথ দিয়ে টাকা আসবে বলা হয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি শাসিত রাজ্যও রয়েছে, সেখানে টাকার ফ্লো আটকান। বিহার, উত্তরপ্রদেশে আটকান। যে পুলিশকর্তারা নির্বাচন কমিশনের কথায় এই ভাবে কাজ করছেন, তাঁরা পরিষ্কার জেনে রাখুন, চতুর্থবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ক্ষমতায় আসছেন।’ এরপরে তাঁর সতর্কবার্তা, ‘আপনাদের হয়তো কারও ২০২৬ সালে অবসর নেওয়ার কথা, অনেকের ২০২৯ সালের পরে অবসর গ্রহণের সময় রয়েছে। আপনাদের তালিকা যেম‍ন বিজেপি করছে, আমাদের প্রশাসনও আপনাদের তালিকা করে রাখবে। আমরাও দেখব, কোন কোন আমলা বিজেপির কথায় চললেন। শেষ পর্যন্ত চাকরি করতে হবে বাংলায়।’

    তৃণমূলের আরও দাবি, যেখানে এখন টাকা মজুত রয়েছে বলে কমিশনের কাছে খবর রয়েছে, ইডিকে সেটা কমিশন জানিয়ে দিক। কীসের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে? যদিও এই ইস্যুতে তৃণমূলকে পাল্টা আক্রমণ শাণিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা বলেন, ‘এ সব রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ। ওরা বুঝতে পারছে, হেরে যাবে। তাই মনগড়া গল্প বলছে। তৃণমূলের পেটোয়া পুলিশ অফিসারদের কমিশন সরিয়ে দিয়েছে। ওরা ভোটের আগে টাকা, অস্ত্র পাচার করতই। তবে ওরা নিশ্চিত নয়, আগের পুলিশ আর নেই। সেফ প্যাসেজ আর পাবে না। তাই ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগে থেকে ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রাখছে।’

  • Link to this news (এই সময়)