লোকসভার আসন বেড়ে হচ্ছে ৮৫০, বিলের বিরুদ্ধে সরব মমতা
বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী কাল ১৬ এপ্রিল বসছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে আনা হচ্ছে ১৩১ তম সংবিধান সংশোধন বিল। সঙ্গে আরও দুটি। দ্য ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬ এবং দ্য ইউনিয়ন টেরিটোরিজ লজ (সংশোধনী) বিল ২০২৬। এই তিন বিলের বলে, লোকসভা এবং বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো হবে। কার্যকর হবে ৩৩ শতাংশ মহিলা প্রতিনিধিত্ব। বিল পাশ হলে ২০২৯ সাল থেকে লোকসভা ভোটে আসন সংখ্যা বেড়ে হবে ৮৫০। এখন রয়েছে ৫৪৩। বিলে বলা আছে, সাধারণ রাজ্যগুলি থেকে নির্বাচিত সাংসদ হবেন ৮১৫ জন। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে আসবেন ৩৫ জন। সব মিলিয়ে লোকসভায় মহিলা সাংসদদের জন্য সংরক্ষিত আসন হবে ২৭৩। ডিলিমিটেশন বিলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে এসে টুকরো টুকরো করে দেবে আপনাদের। তারপরে এনআরসি করবে। এই মোটা ভাইকে বিশ্বাস করেন? কেউটে সাপকে বিশ্বাস করতে পারেন কিন্তু এদেরকে বিশ্বাস করবেন না।
তবে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে এতদিন ২০২৬ সালের পর যে সেন্সাস এবং এলাকা পুনর্বিন্যাস হবে, তার ভিত্তিতে করার কথাই বলা আছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি সেটিকে অগ্রাহ্য করে এখনই তা করতে চান। তাই ২০১১ সালের সেন্সাস তথ্যকে ভিত্তি করে হবে এলাকা পুনর্বিন্যাস। তাই আনা হচ্ছে ডিমিলিটেশন সংশোধনী বিল। আসন সংখ্যা বাড়ানো এবং মহিলা প্রতিনিধিত্ব ৩৩ শতাংশকে আইনি রূপ দিতে পাশ করাতে হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইনও। যদিও বিরোধীদের প্রশ্ন, ২০২৯ সাল থেকেই যখন কার্যকর হবে তখন কেন আচমকা পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী আবহে আনা হচ্ছে এই বিল? পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে এখনো ভোট বাকি। তাই এখন সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই বিল পাশ আদর্শ নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন বলেই কংগ্রেসের মন্তব্য। তবে সরকার যখন অধিবেশন ডেকেইছে। তখন হাজির থাকতেই হবে। তাই কীভাবে হাজির হয়ে সরকারকে বিপাকে ফেলেও নিজেদের গায়ে মহিলা-বিরোধী তকমা লাগবে না, তারই স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে আজ বৈঠকে বসছে বিজেপি বিরোধী দলগুলি। তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ ব্রায়ানের দাবি, অবিজেপি সব দল মিলে এই বিল আটকে দেওয়া হবে। আমরা মহিলা বিলের পক্ষে। কিন্তু ডিলিমিটেশন এভাবে কার্যকর করার বিপক্ষে।