• উপ নির্বাচনের ফল অক্সিজেন জোগাচ্ছে তৃণমূলকে, নিজের পরিচয় দিতেই সময় কাটছে বিজেপি প্রার্থীর
    বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: চা বাগান, অল্প কিছু কৃষিজমি ও বনাঞ্চল দিয়ে ঘেরা মাদারিহাট বিধানসভা আসন। বিধানসভার একপাশে ভুটান সীমান্ত। ভুটানের পাগলি ও গোমটুর সিমেন্ট সহ অন্য রাসায়নিক কারখানার গুঁড়ো ধোঁয়ায় দুষিত হচ্ছে চা গাছ। এবার এই আসনে লড়াই একাধিক রাজনৈতিক দলের। তবে একাধিক প্রার্থী থাকলেও চর্চা চলছে তৃণমূল প্রার্থী উপ নির্বাচনে জেতা বিদায়ী বিধায়ক জয়প্রকাশ টোপ্পো ও বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বুকে নিয়েই।

    চা বলয়ের এই আসনে চা শ্রমিকরাই ভোটের নির্ণায়ক হয়ে উঠেন। সেজন্য তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলের প্রার্থীই প্রচারে চা বাগানেই চড়কি পাক খাচ্ছেন। পদ্মপার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে মাদারিহাটের বিজেপি প্রার্থীর নাম দ্বিতীয় তালিকায় প্রকাশ হয়েছিল। প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মণবাবুর নাম প্রকাশ হতেই বিজেপির কোন্দল প্রকাশ্যে এসে পড়ে। প্রার্থী বদলের দাবিতে মাদারিহাটে ও বীরপাড়া পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিজেপির বিক্ষুব্ধ অংশ। শেষ পর্যন্ত ক্ষোভ বিক্ষোভ, দলের অন্দরের কোন্দল সামলে ভোটের ময়দানে নামলেও নিজের পরিচয় দিতেই সময় কাটছে বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণবাবুর। তুলনায় পরিচিত মুখ তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পো ঘরের ছেলে। বিধানসভার চা বাগানগুলিতে তাঁর অবাধ বিচরণ।

    তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পো নিজেই চা শ্রমিক পরিবারের ছেলে। ডিমডিমা চা বাগানের হাটখোলা লাইনে তাঁর বাড়ি। চা শ্রমিকরা ডাকলেই তিনি বাগানে ছুটে যান। মাদারিহাট বিধানসভা আসনে ২২টি চা বাগান। চা শ্রমিকরা বলেন, এখানে ঘরের ছেলে জয়প্রকাশ। যে কোনোও সমস্যায় যখন তখন ডাকলেই বাগানে ছুটে আসে। শ্রমিকদের একাংশের বক্তব্য, উপ নির্বাচনে জিতে জয়প্রকাশ টোপ্পো মাত্র দেড় বছরের বিধায়ক ছিলেন। আমাদের বিশ্বাস পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদের বিধায়ক হলে তিনি ভালো কাজ করবেন। তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ অবশ্য বলেন, এবার পাঁচ বছরেরই বিধায়ক হচ্ছি। আমার জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। 

    আরএসপি প্রার্থী সুভাষ লোহারও দাপিয়ে প্রচার করছেন। যদিও কতটা কী করতে পারবেন ভোটের ফলেই  তা বোঝা যাবে। কারণ, এখান আর কোদাল বেলচার ঝনঝনানি শোনা যায় না। মাদারিহাট বিধানসভায় রয়েছে ১২টি পঞ্চায়েত এলাকা। এর মধ্যে বিন্নাগুড়ি ও সাঁকোয়াঝোরা-১ এই দুটি পঞ্চায়েত এলাকা পড়েছে জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট ব্লকের মধ্যে। ২০১১ সালে রাজ্যে জোড়াফুল ফুটলেও এখানে আরএসপি জিতেছিল। পরে ২০১৬ ও ২০২১ পর পর দুটি বিধানসভা ভোটে জিতেছিল বিজেপি। একুশে বিজেপির লিড ছিল ২৯ হাজার ৬৮৫ ভোটের। তবে চব্বিশের লোকসভা ভোটে মাদারিহাট বিধানসভা আসনে পদ্মপার্টির সেই লিড তৃণমূল নামিয়ে আনে মাত্র ১১ হাজারে। আর চব্বিশের নভেম্বরে বিধানসভার উপ নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী রাহুল লোহারকে ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে জয়ী হন তৃণমূলের জয়প্রকাশ টোপ্পো। এবারও আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূল নেতৃত্ব। 

    ২২টি চা বাগানে ১০২টি বুথ রয়েছে। উপ নির্বাচনে তৃণমূল ৮২টি বুথে এগিয়ে ছিল। যা এবারের ভোটে আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে শাসক দল তৃণমূলকে। আর দলীয় কর্মীদের ক্ষোভ বিক্ষোভ মিটিয়ে দেরিতে প্রচারে নামা বিজেপি প্রার্থীর  নিজের পরিচয় দিতেই সময় কাটছে। যদিও লক্ষ্মণবাবু বলেন, আমি দু’বার বীরপাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্য ছিলাম। মানুষকে আমার পরিচয় দিতে হচ্ছে না। এখানে আমিই জিতব।
  • Link to this news (বর্তমান)